প্রাণী ও মানুষের মধ্যে ছড়ানো রোগে ব্যাপক অসুস্থতা ও মৃত্যু হতে পারে, অর্থনীতি ব্যাহত হয়, চাপে পড়ে স্বাস্থ্যসেবা। এগুলো ঠেকাতে শুধু মানুষের স্বাস্থ্যের দিকে তাকালে চলবে না, বলছে গবেষণা সংস্থা সিএবিআই (CABI)। ৩ নভেম্বরের ওয়ান হেলথ দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত লেখায় সংস্থাটি এ কথা বলেছে। এটি একটি ধারাবাহিকের প্রথম লেখা, আর সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত তাদের একটি প্রমাণভিত্তিক নোটের পর এসেছে।
ওয়ান হেলথ ধারণার মূল কথা, মানুষ, গৃহপালিত ও বন্য প্রাণী, উদ্ভিদ ও বৃহত্তর পরিবেশের স্বাস্থ্য পরস্পর যুক্ত, তাই একসঙ্গে সামলাতে হবে। সিএবিআই বলছে, ধারণাটি ব্যাপক স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২১ সালে বিশেষজ্ঞ প্যানেল এর বৈশ্বিক সংজ্ঞা দিয়েছে, ২০২২ সালে এফএও, ইউএনইপি, ডব্লিউএইচও ও বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা যৌথ কর্মপরিকল্পনা করেছে।
তবে বাস্তবে প্রয়োগ দেশ ও খাতভেদে অনেকটাই আলাদা। ব্যয়ের তুলনায় লাভ ও প্রভাবের শক্ত প্রমাণ না থাকলে সমর্থন কমে যাবে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। তারা চারটি অগ্রাধিকারের কথা বলেছে।
প্রথমটি প্রতিরোধ ও আগাম শনাক্তকরণ, যাকে সংকটের পরে সাড়া দেওয়ার চেয়ে অনেক বেশি টেকসই বলছে সিএবিআই। মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের নজরদারি একসঙ্গে যুক্ত হলে নানা খাত দ্রুত সাড়া দিতে পারে। ভূমি ব্যবহার, বাণিজ্য ও বন্য প্রাণী খাওয়ার পরিবর্তনে নজর রাখলে প্রাদুর্ভাবের ক্ষতি কমানো যায়।
দ্বিতীয়টি নানা খাতের পরস্পরবিরোধী অগ্রাধিকার সামলানো। সব পক্ষের লাভ হয়, এমন পথ খুঁজতে সামাজিক-পরিবেশগত মডেল ও গেম থিওরির মতো পদ্ধতির কথা বলছে সংস্থাটি।
তৃতীয়টি প্রযুক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জটিল তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রজাতির মধ্যে সংক্রমণ শনাক্ত করতে সাহায্য করে, ডিজিটাল নথি থেকে প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে আরও জানা যায়, আর সম্পূর্ণ জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ে জীবাণুর গতিপথ অনুসরণ করা যায়। তবে এর জন্য কৌশলগত বিনিয়োগ এবং কারিগরি, রাজনৈতিক ও গোপনীয়তার দিকে মনোযোগ দরকার।
চতুর্থটি ওয়ান হেলথকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করা, অর্থাৎ প্রশিক্ষণ, প্রতিষ্ঠান ও আইনে এর অন্তর্ভুক্তি। এর মধ্যে আছে তথ্য বিনিময়ের আইন, বৈশ্বিক চুক্তি, সমন্বিত গবেষণা কেন্দ্র, জাতীয় প্ল্যাটফর্ম ও কর্মী উন্নয়ন। যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে ২০২৪ সালে চালু সিএবিআইয়ের ওয়ান হেলথ হাব এই প্রমাণ তৈরিতে তাদের নিজস্ব অবদান।
ছবি: Master Sgt. Jeremy Lock / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন), টিকা ও চিকিৎসার জন্য আনা ছাগল ও মুরগি, ২০০৮
সূত্র: গ্লোবাল এগ্রিকালচার



মন্তব্য
(০)