মদনপল্লের টমেটো চাষি বা চিত্তুরের আম চাষিকে জিজ্ঞেস করুন সবচেয়ে বেশি ভয় কীসে, উত্তর খরা নয়, বাম্পার ফলন। অন্ধ্রপ্রদেশের রায়ালসীমা অঞ্চলে সবাই একসঙ্গে ভালো ফসল তুললেই দাম ধসে পড়ে। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে।
জুলাইয়ে এক দিনে ১৩ হাজার টন টমেটো বাজারে আসে, দাম নেমে যায় কেজিতে ১৪.৭০ রুপিতে, নিম্ন গ্রেডের টমেটো ৮-১০ রুপিতে; ক্রেট ও পরিবহনের খরচ মিটিয়ে কৃষকের হাতে থাকে মাত্র ৩ রুপি। ২০২৫ সালের খরিফ মৌসুমে আন্নামাইয়া ও অনন্তপুর জেলার চাষিরা ৬ রুপি খরচের টমেটো বাধ্য হয়ে ৪ রুপিতে বিক্রি করেন। আম চাষিদের অবস্থাও একই: ২০২৫ সালে চিত্তুরের তোতাপুরি আমে কেজিতে ১২ রুপি ন্যূনতম সহায়ক মূল্য আর ৪ রুপি ভর্তুকি ঘোষণা হলেও তা বাজারে পৌঁছায়নি; ২০২৬ সালে দাম মে মাসের ১২০ রুপি থেকে জুনে ৩০ রুপিতে নামে।
উদ্যানবিজ্ঞানীরা তিনটি সমস্যার কথা বলছেন। অঞ্চলটি বৃষ্টিনির্ভর, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নামছে, খামার পুকুর, চেক ড্যাম ও ক্ষুদ্র সেচের বিস্তার অসম; হান্দ্রি-নীভা খালের পানি দেরিতে এলে বোনা পিছিয়ে যায়, ফসল তোলাও একসঙ্গে পড়ে। বাজারব্যবস্থা দুর্বল: ভরা মৌসুমে একই ঘণ্টায় ৩০০ কৃষক মদনপল্লে বা পুঙ্গানুরে ছোটেন, আগাম ক্রেতা নেই, গ্রেডিং নেই, কৃষক উৎপাদক সংগঠনও দুর্বল, আর ক্রেটের জন্য অগ্রিম দেওয়া মধ্যস্বত্বভোগীরা দাম ঠিক করেন। টমেটো দুই দিন আর আম দশ দিন টেকে, অথচ অঞ্চলটিতে ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানোর মতো হিমাগার বা প্যাক হাউসও নেই।
"২০২৫ সালে মদনপল্লে-পুঙ্গানুর সড়কে টমেটো ফেলে দেওয়ার ঘটনা অতিরিক্ত উৎপাদনের জন্য নয়, রাখার জায়গা আর কেনার লোক না থাকার জন্য," বলেন গুরুমকোন্ডার ৩৮ বছর বয়সী কৃষক রাজশেখর।
এই সমস্যা মেটাতে নেওয়া হচ্ছে ১ লাখ কোটি রুপির রায়ালসীমা ইন্টিগ্রেটেড হর্টিকালচার হাব। ২ অক্টোবর মদনপল্লেতে মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু ও কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা। পরিকল্পনায় পূর্বোদয় প্রকল্পের আওতায় কেন্দ্রের ৪০ হাজার কোটি রুপি আর ৬০ হাজার কোটি রুপির বেসরকারি বিনিয়োগে ১০টি জেলার ২০১টি ক্লাস্টার গড়ার কথা, প্রতিটিতে সংগ্রহকেন্দ্র, গ্রেডিং, হিমাগার ও বাজার সংযোগ থাকবে।
চিত্তুর জেলা আম উৎপাদক সমিতির সভাপতি কোথুর বাবু বলেন, ঠিকমতো বাস্তবায়ন হলে টমেটো চাষিরা তিন-চার দিন গ্রেড করে রেখে চাহিদা বুঝে চেন্নাই, বেঙ্গালুরু বা হায়দরাবাদে পাঠাতে পারবেন, আর আমের জন্য হবে পাল্প কারখানা ও রপ্তানি প্যাক হাউস। তবু কৃষকেরা সতর্ক: ২০১৪ সালে হিমাগার ও টমেটো শিল্পের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি বলে জানান তাঁরা।
ছবি: எஸ்ஸார் / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: দ্য হিন্দু





মন্তব্য
(০)