আদমদীঘিতে রোপা আমন ধানের ফলন ভালো হলেও মাজরা পোকার আক্রমণে দিশেহারা কৃষক
আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় শস্য ভান্ডার বলে খ্যাত বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় এবার ও রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা। গত বছরেও রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছ
আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় শস্য ভান্ডার বলে খ্যাত বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় এবার ও রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা। গত বছরেও রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছরে মাঝে মধ্যে বৃষ্টিপাত হলেও আবহাওয়া অনুকলে থাকায় উপজেলায় এবারও রোপা আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।
আদমদীঘি উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাযায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়ন মিলে এবার ১১ হাজার ১’শ ১৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বর্ণা-৫, রনজিত, পায়জাম, হাইব্রিট, ব্রি-ধান-১১, ৩৪, ৪৯. ৬২সহ বেশ কয়েক জাতের আমন ধান রোপন করা হয়েছে
গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে আমন ক্ষেতে তেমন কোনো রোগবালাই ছিল না বললেই চলে। তবে উপজেলায় কিছু কিছু এলাকায় এখন আমন ধানের খেতে ব্যাপকভাবে মাজরা পোকা, ফরিং জাতীয় পোকা ও অচেনা জাতের সাদা এক প্রকার পোকার আক্রমণ শুরু হয়েছে। এ সব পোকা দমনে ব্যর্থ হওয়ায় কৃষকেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। পোকা দমন বা নিধনে উপজেলা কৃষি অফিসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা মাঠ পর্যায়ে এসে পরিদর্শন করে কৃষকদের বিভিন্ন বালাই ও কিট নাশক দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।
শনিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের দমদমা, সান্দিড়া, কাশিমিলা, প্রসাদখালীসহ কয়েকটি গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় সব জমির আমন ধানের গাছে ব্যাপকভাবে মাজরা পোকা আক্রমণ করেছে। মাজরা পোকার আক্রমণের কারণে অধিকাংশ ধানগাছের পাতা মরে হলুদ রং ধারণ করেছে। কোনো কোনো জমির ধানগাছ প্রায় পাতাশূন্য হয়ে মরে যাচ্ছে। মাজরা দমনে কৃষকেরা বিভিন্ন কোম্পানির কীটনাশক ব্যবহার করেও কোনো ধরনের সুফল পাচ্ছেন না। ইতিমধ্যে অনেক ধানগাছ থেকে মোচা বের হতে শুরু করেছে।
রোপাআমন ধান গাছ ভাল রাখতে ও ধানের উৎপাদন বাড়াতে কৃষি কর্মকর্তা ও উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাগনের পরামর্শে রোগ বালাই দমনে বিভিন্ন কীট নাশক ওষধ প্রয়োগসহ সার্বক্ষনিক জমিতে পরিচর্যা বিষয়ক পরামর্শ দিচ্ছেন তারা কৃষকদের।
কৃষক তৈহিদুর রহমান, সুনিল চন্দ্র, হিরু আলমসহ অনেকেই জানান, সবুজে ঘেরা রোপা আমনের মাঠ দেখে যেন এক মূহুর্তের জন্যেও বিশ্রাম নেয়ার ফুরসত নেই। যেদিকে চোখ যায় সবুজের অপরুপ সমারাহ। মাঠে মাঠে হাওয়ায় দুলছে আমন ধানের সবুজপাতা, আর আনন্দে দুলছে কৃষকদের মন। মাঝেমধ্যে বৃষ্টিপাত হলেও আমন আবাদের জন্য আবহাওয়া অনুকুলে তাই ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিঠু চন্দ্র অধিকারি জানান, সামান্য কিছু এলাকায় রোপাআমন ধানে রোগবালাই হলেও আমরা সময়মত কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছি। আশাকরা যায় খুব দ্রতুই পোকার আক্রমণ সমস্যার সমাধান হবে। এ ছাড়া উপজেলা কৃষি অফিসের মাঠপর্যায়ে থাকা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাগন কৃষকদের সময় মত পরামর্শ দেয়ায় আমন ক্ষেতে এবার রোগবালাই তেমন একটা লক্ষ্য করা যাচ্ছেনা। ধানগাছে রোগবালাই না থাকায় এবারও বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।



