পুঁজির সংকটে থাকা কৃষি ও খাদ্যপ্রযুক্তি স্টার্টআপগুলোর বড় কোম্পানির সঙ্গে এক্সক্লুসিভ চুক্তি, মেয়াদহীন পাইলট প্রকল্প বা কঠিন শর্তের বিনিয়োগপত্রে সই করার আগে ভালো করে ভাবা উচিত। এমন পরামর্শ দিয়েছেন জার্মান বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান অ্যালেফ আইনস ক্যাপিটালের (Aleph Eins Capital) ব্যবস্থাপনা পরিচালক জর্জ বিলকিস (George Bilkis)। এই প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে তিনি ছয় বছর জার্মান বীজ কোম্পানি কেডব্লিউএসে (KWS) বিশ্বজুড়ে অধিগ্রহণ, যৌথ উদ্যোগ ও ভেঞ্চার বিনিয়োগের চুক্তির দায়িত্বে ছিলেন।
অ্যালেফ আইনসের পেছনে আছে এমন একটি পরিবার, যাদের মূল ব্যবসা কৃষি। এজিফান্ডনিউজকে বিলকিস জানান, পরিবারটি যুক্তরাজ্যে সবজি ও দানাশস্যের সবচেয়ে বড় উৎপাদক, দেশটির সবচেয়ে বড় কৃষি রাসায়নিক পরিবেশক এবং সেখানে দেশের সবচেয়ে বড় জলাধার গড়ছে। প্রতিষ্ঠানটি মূলত কৃষি, রাসায়নিক, পানি ও জ্বালানি খাতের এমন কোম্পানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক অংশীদারি নেয়, যাদের মূল্য প্রায় ২০ থেকে ৩০ কোটি ইউরো। নিজেদের জমিতে বায়োচার ও সিনগ্যাস কারখানাও চালায় তারা। এখন একটি বীজ কোম্পানি কেনার কাজ চলছে।
তাঁর মূল পরামর্শ পাইলট প্রকল্প নিয়ে। বিলকিস বলেন, পণ্য প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করলে কোম্পানি তা কিনবে, পাইলটকে এমন একটি নির্দিষ্ট ক্রয়ের সঙ্গে বেঁধে দিতে হবে। আর কোম্পানির ভেতরে যাঁরা আসলে সিদ্ধান্ত নেন, তাঁদের কাছে পৌঁছাতে হবে। তা না হলে সম্পদ আর মূল্যবান সময় এমন সব পাইলটে নষ্ট হবে, যা কোথাও পৌঁছায় না।
এক্সক্লুসিভ চুক্তির প্রশ্নে তিনি আরও স্পষ্ট। বড় কোম্পানি যদি স্টার্টআপটি পুরোপুরি কিনে নিতে প্রস্তুত না থাকে, তবে উত্তর হবে না। একজন ক্রেতার কাছে বাঁধা পড়লে স্টার্টআপের বিক্রির পথ সংকুচিত হয়, আর পরের বিনিয়োগকারীরাও সরে যান। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কিনে নেওয়ার অধিকার, অর্থাৎ রাইট অব ফার্স্ট রিফিউজালকে তিনি সবচেয়ে খারাপ শর্তগুলোর একটি বলেছেন এবং এমন শর্তের টাকা না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
তবে বড় কোম্পানির বিনিয়োগের বিরোধী নন বিলকিস। ভেঞ্চার পুঁজি কম থাকলে করপোরেট টাকা ধৈর্যশীল পুঁজির একটি উৎস, যদি মূল্যায়ন ন্যায্য হয় এবং শর্তগুলো পরের তহবিল সংগ্রহ, বাজারজাতকরণ ও বিক্রির পথ রুদ্ধ না করে। সম্পর্কটি আনুষ্ঠানিক করার সময় বিনিয়োগকারীদের কাছে ওই কোম্পানিকে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
তাঁর মতে, অভ্যন্তরীণ লক্ষ্য নতুন করে ঠিক করার সময় বড় কৃষি কোম্পানিগুলো কিছু কাজে বিরতি দিয়েছিল, যদিও পুরোপুরি থামেনি। এই খাতে পারিবারিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন বেশি এগিয়ে আসছে। কৃষকের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জৈব উপকরণ থেকে মাঠের সেন্সর পর্যন্ত অনেক প্রযুক্তি তাঁদের হাতে পৌঁছায় কেবল তখনই, যখন একটি স্টার্টআপ ঠিক এ রকম দর-কষাকষি পেরিয়ে টিকে থাকে।
সাক্ষাৎকারটি নিয়েছে এজিফান্ডনিউজ।
ছবি: TrangHo KWS / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ





মন্তব্য
(০)