২৭২ উপজেলায় অ্যাপে আমন ধান কিনবে সরকার
চলতি আমন মৌসুমে 'কৃষকের অ্যাপ'র মাধ্যমে ধান কিনবে সরকার। এজন্য মাঠপর্যায়ে খাদ্য বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ১৩ নির্দেশনা দিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর।
চলতি আমন মৌসুমে 'কৃষকের অ্যাপ'র মাধ্যমে ধান কিনবে সরকার। এজন্য মাঠপর্যায়ে খাদ্য বিভাগীয় কর্মকর্তাদের ১৩ নির্দেশনা দিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর।
কৃষকের ঘরে উঠতে শুরু করেছে আমন ধান। বুক ভরা আশা নিয়ে কৃষক ধান কাটা শুরু করলেও দাম নিয়ে তারা নিরাশ হচ্ছেন। চাষিরা বলছেন, এবার সার সংকট ও বর্ষা মৌসুমে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় ফলন কম হচ্ছে। এর ওপর উৎপাদন খরচ অনুযায়ী তারা দাম পাচ্ছেন না।
পঞ্চগড়ে চলতি আমন মৌসুমে ধানের ফলন ভালো হলেও কিছু এলাকায় কারেন পোকার (বাদামি ঘাস ফড়িং) আক্রমণে ক্ষতি হয়েছে অনেক কৃষকের। কীটনাশক দিয়েও শেষ রক্ষার হয়নি এসব জমির আমন আবাদের।
নওগাঁর বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দোল খাচ্ছে কৃষকের সোনালী স্বপ্ন। চারিদিকে আমন ধানের মৌ মৌ ঘ্রাণ। ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-শ্রমিকরা। কারণ নতুন ফসলে হেমন্তের নবান্ন উৎসবে মেতে উঠবেন তারা।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উচ্চ ফলনশীল ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে, যা অবমুক্তের অপেক্ষায় আছে। নতুন উদ্ভাবিত এ ধানে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ প্রচলিত জাতের চেয়ে কম। জাতটি বিদ্যমান জাতের তুলনায় বিঘাপ্রতি ১ থেকে ২ মণ ফলন বেশি, খড়ের ফলনও বেশি। জাতীয় বীজ বোর্ডের সভায় এ ধানের জাত ব্রি১০৩
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চলতি মৌসুমে আবাদ করা আমনের ধানক্ষেতে আক্রমণ করছে কারেন্ট পোকা। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন অনেক কৃষক। উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পোকা দমনে ও কৃষকদের পরামর্শ দিতে মাঠ পর্যায়ে না যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে কৃষি কর্মকর্তারা এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
রাইস ট্রান্সপ্লান্টার বা ধানের চারা রোপণ যন্ত্রের উপযোগী ট্রে'তে ম্যাট টাইপ চারা উৎপাদনে একটি সাশ্রয়ী বীজ বপন যন্ত্র উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) ফার্ম মেশিনারি অ্যান্ড পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি বিভাগের বিজ্ঞানীরা।
ফরিদপুরে ওষধি ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ 'ব্ল্যাক রাইস' চাষ করে তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা হাসিবুল হাসান রন্টি সফল হয়েছেন। প্রায় দুই বিঘা জমিতে এ ধানের চাষ করেছেন তিনি। এতে বাম্পার ফলন হয়েছে। ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নে হাসিবুল হাসান রন্টির ধান ক্ষেত। তার বাড়ি ফরিদপুর শহরের আলীপুর।
দিনাজপুরে বাজারে উঠতে শুরু করেছে আগাম জাতের ধান। এবার বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় আমনের ভালো ফলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। এছাড়া বাজারে ধানের দাম নিয়েও খুশি তারা। এই দাম অব্যাহত থাকলে কৃষকদের বাড়তি যে ব্যয় হয়েছে তা পুষিয়ে যাবে।
পুরো অগ্রহায়ণ মাস মূলত আমন ধান কাটার মৌসুম। তবে এর আগেই গাইবান্ধায় আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। মাঠের সোনালি ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
বর্তমানে সরকারি গুদামে পৌনে ১৬ লাখ টনের মতো খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। এর মধ্যে চালই রয়েছে ১৩ লাখ ৬৩ হাজার টনের বেশি, যা মোটামুটি সন্তোষজনক বলা চলে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চালের মজুত ভালো হলেও বাজারে চালের দাম রয়েছে সর্বোচ্চ পর্যায়ে। চলতি বছরের নভেম্বরেই মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি
ময়মনসিংহ বিভাগে বাৎসরিক বিপুল পরিমাণ ধান-চালজাতীয় খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকে। গম ও ভুট্টার বিপুল পরিমাণ ঘাটতি রয়েছে। তবে গম-ভুট্টার আবাদে কৃষকদের আগ্রহী করার কথা জানিয়েছেন আঞ্চলিক কর্মকর্তা।
চলতি বছর রাজশাহীতে পরীক্ষামূলকভাবে ব্রি ধান ৭৫'র বীজ বপন করা হয়েছিল। ১০৫ দিনের মাথায় কাটা হয়েছে। তবে ৯৫ দিনে এই ধান কাটা সম্ভব। ট্রায়াল প্লটে (মাঠ পরীক্ষা) হেক্টরপ্রতি ৫ টনের বেশি ফলন পাওয়া যাচ্ছে নতুন এ জাতের। এমনটিই জানিয়েছেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর।