প্রকৃত কৃষককে চিনে সরকারি সুবিধা সরাসরি তাঁর কাছে পৌঁছাতে প্রত্যেক কৃষকের নামে ১২ সংখ্যার একটি ‘ইউনিক ফার্মার আইডি’ তৈরি করছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এই সময় জানায়, পশ্চিমবঙ্গের ভাঙড়ের বিভিন্ন ব্লকে সম্প্রতি এর কাজ শুরু হয়েছে; নদিয়া, উত্তর ২৪ পরগনা ও মুর্শিদাবাদের একাধিক ব্লকেও কাজ চলছে।
সমস্যাটি পুরোনো: অভিযোগ আছে, তথ্য গোপন করে এক শ্রেণির মানুষ কৃষকের জন্য বরাদ্দ সরকারি টাকা তুলে নেন, বঞ্চিত হন প্রকৃত কৃষক। নতুন ব্যবস্থায় কেন্দ্রের ডিজিটাল কৃষি মিশনের অধীনে প্রত্যেক কৃষকের পরিচয়, জমি ও ফসলের তথ্য সরকারি ডিজিটাল ব্যবস্থায় নথিভুক্ত হচ্ছে। পুরো ব্যবস্থাটির নাম ‘এগ্রিস্ট্যাক’; আইডি দিলেই কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট কৃষকের বিস্তারিত তথ্য দেখতে পাবেন।
কাজ যেভাবে চলছে: নিবন্ধনের আগে কৃষকের দেওয়া জমির দলিল, পরচা ও অন্যান্য নথি মিলিয়ে দেখবেন ভূমি রাজস্বের কর্মকর্তারা। কৃষকেরা সরাসরি কৃষি দপ্তরে গিয়ে বা অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারবেন। ভাঙড় ১ নম্বর ব্লকের সহকারী কৃষি অধিকর্তা সাহানুর রহমান জানান, কৃষকদের জন্য এই আইডি বাধ্যতামূলক।
কৃষি দপ্তরের কর্মকর্তাদের ব্যাখ্যা, ডিজিটাল পরিচয় থাকলে কৃষক বন্ধু ও পিএম-কিসান সম্মান নিধির মতো প্রকল্পের টাকা, ভর্তুকি, ফসল বিমা, কৃষিঋণ এবং ন্যূনতম সহায়ক মূল্যে কেনা ফসলের দাম সরাসরি প্রকৃত কৃষকের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো সহজ হবে। মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাটসহ কয়েকটি রাজ্যে কাজ অনেক এগিয়েছে; পশ্চিমবঙ্গে নথিভুক্ত কৃষক এক কোটির বেশি। রাজ্যের নতুন সরকার কৃষক নিবন্ধনের নতুন পোর্টাল চালু করেছে।
পাশাপাশি কৃষিযন্ত্র কেনায় ভর্তুকির জন্য ৬ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ বাহারুল ইসলাম বলেন, জমির নথিতে অসংগতি বা কারিগরি সমস্যার কারণে কোনো প্রকৃত কৃষক যেন বঞ্চিত না হন, তা দপ্তর যাচাই করবে। প্রতিবেদনটি এই সময়ের ভাঙড় প্রতিনিধি প্রশান্ত ঘোষের।
ছবি: Frank Bond / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন); বাংলার ধানখেতে কৃষক, প্রতীকী ছবি
সূত্র: এই সময়





মন্তব্য
(০)