এ বছর বাংলাদেশের ইলিশ ভারতে যাচ্ছে না। তাহলে পশ্চিমবঙ্গের বাজার চলবে কী দিয়ে, আর ভারতের ইলিশ কি পদ্মার ইলিশের সঙ্গে পাল্লা দিতে পারে? এই প্রশ্নে কলকাতার শেফ, মাছ ব্যবসায়ী ও জেলেদের সংগঠনের সঙ্গে কথা বলেছে এই সময় অনলাইন।
এগজিকিউটিভ শেফ ও কলকাতার একটি রেস্তোরাঁর অন্যতম কর্ণধার সুশান্ত সেনগুপ্তর মতে, ডায়মন্ড হারবার ও বাংলাদেশ সীমান্তের কাছে পাওয়া ইলিশের মান খুব ভালো এবং স্বাদে কম নয়, তবে তা মৌসুমের ওপর নির্ভর করে; জুনের পর আসা ইলিশে তত স্বাদ থাকে না। প্রবীণ মাছ ব্যবসায়ী প্রফুল্ল হালদার জানান, দিঘা মোহনা, ডায়মন্ড হারবার ও নামখানায় বঙ্গোপসাগর থেকে ঢোকা ইলিশ ধরা পড়ে; কোলাঘাটে দামোদর-রূপনারায়ণের ইলিশ আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। তাঁর দাবি, রাজ্যের ইলিশে মোটামুটি চাহিদা মিটছে।
দিঘা মোহনা, শঙ্করপুর, কাঁথির শৌল্যা, খেজুরি এবং রূপনারায়ণ থেকে কোলাঘাট, মহিষাদল ও হলদিয়ার জেলেদের জালে ইলিশ ওঠে। দিঘা মোহনা ফিশ অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান প্রণব কর বলেন, গত ১০-১৫ বছরে দিঘা আর বাংলাদেশের ইলিশে তিনি কোনো পার্থক্য পাচ্ছেন না। শঙ্করপুর ফিশারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক স্বদেশ নায়েকের মতে, পদ্মার বড় ইলিশ না এলে রাজ্যের মানুষের খুব বড় সমস্যা হবে না।
অনেকে ওডিশার বুড়িবালাম নদীর ইলিশের কথাও বলেন, তবে প্রফুল্ল হালদার জানান, ওডিশার ইলিশ পশ্চিমবঙ্গের সব জায়গায় তেমন আসে না; বাজার ভরে দিঘা, কোলাঘাট ও ডায়মন্ড হারবারের ইলিশে, সঙ্গে গুজরাটের ইলিশ।
ভিন্নমতও আছে। হাওড়া হোলসেল ফিশ মার্কেট অ্যাসোসিয়েশন ও ফিশ ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ওয়েস্ট বেঙ্গলের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ জানান, হাওড়ার পাইকারি বাজারে এখন মূলত গুজরাট ও মিয়ানমারের ইলিশ আসছে, কোলাঘাট বা ওডিশার ইলিশ তত আসে না। তাঁর মতে, বাংলাদেশের ইলিশের স্বাদ গুজরাট বা মিয়ানমারের ইলিশের চেয়ে ঢের বেশি।
প্রতিবেদনটি এই সময়ের অভিরূপ দত্তের।
ছবি: Mamun2a / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.5)
সূত্র: এই সময়





মন্তব্য
(০)