যুক্তরাষ্ট্রের ক্লেমসন বিশ্ববিদ্যালয় ও মার্কিন কৃষি বিভাগের কৃষি গবেষণা সার্ভিসের বিজ্ঞানীরা তিনটি ক্ষতিকর রোগ, পাউডারি মিলডিউ, ফাইটোফথোরা ফল পচা ও অ্যানথ্রাকনোজ প্রতিরোধী তরমুজের প্রজনন লাইন তৈরি করছেন। সঙ্গে তৈরি হচ্ছে ডিএনএভিত্তিক সরঞ্জাম, যা দিয়ে প্রজননকারীরা দ্রুত প্রতিরোধী গাছ বেছে নিতে পারবেন, জানিয়েছে অ্যাগ্রোপেজেস। আবাদি জমির হিসাবে তরমুজ সাউথ ক্যারোলাইনার সবচেয়ে বড় সবজি ফসল।
ক্লেমসনের পোস্টডক্টরাল গবেষক রাহুল কুমার বলেন, তরমুজে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আনলে ফসলহানি আর বারবার কীটনাশক ছিটানোর প্রয়োজন কমে। তিনি কাজ করছেন কৃষি বিভাগের উদ্ভিদরোগবিদ শেকর কৌশিক (Shaker Kousik) ও ক্লেমসনের আর. কার্তিকেয়নের সঙ্গে। গবেষণা চলছে চার্লস্টনের কাছে কৃষি বিভাগের সবজি গবেষণাগার ও ক্লেমসনের উপকূলীয় গবেষণা কেন্দ্রে।
দলটি প্রচলিত প্রজননের সঙ্গে মার্কার সহায়ক প্রজনন মিলিয়ে কাজ করছে। মাঠ ও গ্রিনহাউসে তরমুজ জন্মিয়ে পরীক্ষার পর গাছের ডিএনএ বিশ্লেষণ করে রোগ প্রতিরোধের সঙ্গে যুক্ত অংশ খোঁজা হয়। আণবিক মার্কার কাজ করে জিনগত চিহ্নের মতো: চারার ডিএনএ পড়েই বোঝা যায় কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্য এসেছে কি না, গাছ বড় হয়ে তা দেখানো পর্যন্ত বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয় না।
পাতা নষ্ট করে খাদ্য তৈরির ক্ষমতা কমানো পাউডারি মিলডিউর জন্য দলটি প্রতিরোধী গাছ এবং সেই প্রতিরোধের সঙ্গে যুক্ত ডিএনএর একটি অংশ পেয়েছে, যা থেকে মার্কার তৈরি হয়েছে। উষ্ণ ও ভেজা আবহাওয়ায় বাড়া ফাইটোফথোরা ফল পচার জন্য জিনোমের কয়েকটি অংশ শনাক্ত হয়েছে; এগুলো এক লাইনে একত্র করলে দীর্ঘস্থায়ী সুরক্ষা মিলতে পারে। কৌশিক বলেন, এ রোগ নিয়ে গবেষণা তাঁদের দল ও জাতীয় তরমুজ সংগঠনের শীর্ষ অগ্রাধিকার। পাতা, কাণ্ড ও ফলে ক্ষতি করা ছত্রাকজনিত অ্যানথ্রাকনোজের জন্য নতুন প্রতিরোধের উৎস খোঁজা চলছে।
আরএনএ সিকোয়েন্সিং ও জিনোমিক পূর্বাভাস দিয়ে দেখা হচ্ছে রোগে গাছ কীভাবে সাড়া দেয় আর কোন গাছে কাজের বৈশিষ্ট্য থাকার সম্ভাবনা বেশি। প্রতিরোধী প্রজনন লাইনগুলো বাণিজ্যিক জাত তৈরির জন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হচ্ছে, কয়েকটি ডিএনএ সরঞ্জাম প্রজননকারীরা এরই মধ্যে ব্যবহার করছেন। কার্তিকেয়ন বলেন, দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য ফলের মান ঠিক রেখে আরও সহনশীল ও ফলনশীল তরমুজ।
ছবি: Zeynel Cebeci / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: AgroPages





মন্তব্য
(০)