কানাডার ম্যানিটোবা প্রদেশের কৃষকদের এবার ফসল তোলার আগে প্রতিটি মাঠে ওয়াটারহেম্প আগাছা খুঁজে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন প্রদেশের কৃষি বিভাগের আগাছা বিশেষজ্ঞ কিম ব্রাউন (Kim Brown)। কারণ কম্বাইন হারভেস্টারই এই আগাছার বীজ ছড়ানোর অন্যতম প্রধান মাধ্যম। এক ওয়েবিনারে তিনি বলেন, বিস্তার থামানোর সময় পেরিয়ে গেছে, তবে গতি কমানো যায়।
ওয়াটারহেম্প (Amaranthus tuberculatus) যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিযন্ত্র ও পাখির বিষ্ঠার মাধ্যমে এসেছে বলে ধারণা; প্রদেশে প্রথম দেখা যায় ২০১৬ সালে। এখন কৃষিপ্রধান ম্যানিটোবার পূর্বাংশের সব গ্রামীণ পৌর এলাকায় এটি আছে, উত্তর-পশ্চিমে সাসকাচুয়ান সীমান্তের কাছেও পাওয়া গেছে। একটি গাছে গড়ে আড়াই লাখ বীজ হয়, পরাগায়নের সাত দিনের মধ্যে বীজ ধরে, আর বেশির ভাগ আগাছার চেয়ে ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ দ্রুত বাড়ে।
ব্রাউনের পরামর্শ: একটি বা কয়েকটি গাছ দেখলে হাতে তুলে ফেলা, বড়গুলো কোদালে খুঁড়ে তোলা, পচে না যাওয়া পর্যন্ত ব্যাগে রাখা, আর সোয়াদার, কম্বাইন ও ট্রাকে ময়লার ব্যাগ রাখা। মাঠের কিনারা ও নালা কেটে রাখতে হবে; এক মাঠ থেকে আরেক মাঠে যাওয়া কৃষিবিদদের জুতার কভার বদলাতে হবে। এক কৃষক নতুন কেনা হেডার ধোয়ার জায়গায় উঠানে ওয়াটারহেম্প গজাতে দেখেছেন। ফসল তোলার পরও বীজ গজায়, তাই বরফ পড়া পর্যন্ত আগাছা দমন চালাতে হবে।
ম্যানিটোবার ওয়াটারহেম্প ইতিমধ্যে আগাছানাশকের গ্রুপ ২, ৯ ও ১৪-এর প্রতিরোধী; যুক্তরাষ্ট্রে আরও কয়েকটি গ্রুপের, সম্প্রতি গ্রুপ ১০ গ্লুফোসিনেটেরও প্রতিরোধ দেখা গেছে। ব্রাউন বলেন, গ্লুফোসিনেট প্রতিরোধ ছড়ালে ম্যানিটোবার ৩৫ লাখ একর ক্যানোলার জন্য তা মারাত্মক হবে, কারণ এর বেশির ভাগই এই আগাছানাশক-সহনশীল জাত। অন্টারিওতে নিয়ন্ত্রণহীন আক্রমণে একসময় ভুট্টা ও সয়াবিনের ফলন ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছিল। প্রতিবেদনটি লিখেছেন লরা র্যান্স-আঙ্গার।
ছবি: Lottery Discountz / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
সূত্র: Manitoba Co-operator





মন্তব্য
(০)