নিউজিল্যান্ডের প্রাণিসম্পদ প্রযুক্তি কোম্পানি হাল্টারের ২২ কোটি ২০ লাখ ডলারের সিরিজ-ই বিনিয়োগ এ বছর কোম্পানিটির মূল্য দাঁড় করিয়েছে প্রায় ২০০ কোটি ডলারে। এতে কৃষি প্রযুক্তির জগতে পুরোনো তর্কই নতুন করে উঠেছে — ভার্চুয়াল ফেন্সিং কি ‘নতুন কাঁটাতার’, নাকি আরেকটি অতিরঞ্জিত খাত।
বিনিয়োগ উপস্থাপনার বাইরে মার্কিন খামারিদের একটি বাড়ন্ত অংশ গরুর গলায় ভার্চুয়াল ফেন্সিং কলার পরিয়ে পাল চলাচল ও জমি ব্যবস্থাপনার ধরন বদলাচ্ছেন। এখনো এটি ব্যাপক নয়, তবে তুলনাটি বারবার ফিরে আসছে।
ইউনিভার্সিটি অব ওয়াইওমিংয়ের অধ্যাপক ড্রু বেনেট, যিনি নিজেও কয়েক হাজার একর খামারজমির মালিক, বলেন, ‘ঊনবিংশ ও বিংশ শতকের শুরুতে কাঁটাতার যেভাবে বিশ্বজুড়ে কৃষি-বাস্তুতন্ত্রের ব্যবস্থাপনায় বিপ্লব এনেছিল, ভার্চুয়াল ফেন্সিংয়েও তেমনই রূপান্তরের সম্ভাবনা আছে।’
দক্ষিণ-পশ্চিম ওকলাহোমায় প্রায় ৫ হাজার ১০০ একর জমি দেখভাল করেন জ্যাক অ্যাবনি। তিনি বলেন, ‘আমরা নতুন কাঁটাতারই দেখছি।’ পাল চরানো, তারপর কাঁটাতার, তারপর বৈদ্যুতিক বেড়া — প্রাণী ব্যবস্থাপনার এই লাফগুলোর পাশে এই প্রযুক্তির শুরুটাও কম নাটকীয় নয় বলে তাঁর মত।
কোম্পানিভেদে ব্যবস্থাগুলো আলাদা হলেও মূল পদ্ধতি এক: গরু বা অন্য গবাদিপশুর গলায় থাকে জিপিএস-যুক্ত কলার, যা মোবাইল নেটওয়ার্ক ও বেস স্টেশনের সঙ্গে যুক্ত থেকে পশুকে একটি অদৃশ্য সীমানার ভেতর রাখে। সেই সীমানা সফটওয়্যারে এঁকে বদলে দেওয়া যায়।
এতে বেড়া তৈরি ও সরানোর খরচ ছাড়াই ঘূর্ণায়মান চারণ চালানো যায়, পোড়া জমি বা নদীতীরের সংরক্ষিত পট্টি থেকে পশু দূরে রাখা যায়, আর পাল কোথায় কোথায় গেছে তার হিসাবও থাকে।
প্রশ্নটি নির্ভরযোগ্যতার। সিগন্যাল হারানো কলার, শীতে বসে যাওয়া ব্যাটারি কিংবা সংকেত উপেক্ষা করতে শিখে যাওয়া পশু — প্রতিটিরই দাম খামারিকে গুনতে হয়। বিনিয়োগের অঙ্ক নয়, এই সাধারণ ভরসাযোগ্যতাই প্রযুক্তিটির বিচার করবে।
দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষুদ্র খামারে কলারের দাম এখনো নাগালের বাইরে; তবে বেড়া দিয়ে নয়, সীমানা দিয়ে চারণ সামলানোর ভাবনাটি যন্ত্রের সঙ্গে বাঁধা নয়।
সূত্র: অ্যাগফান্ডারনিউজ





মন্তব্য
(০)