রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমাতে আর মাটির উর্বরতা বাড়াতে ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার এখন কৃষকের কাছে পরিচিত নাম। গোবর, লতাপাতা, খড়, কচুরিপানা আর অন্যান্য পচনশীল জৈব উপকরণ কেঁচোকে খাইয়ে এই সার তৈরি হয়। ঘরে বা খামারে অল্প জায়গাতেই এটি বানানো সম্ভব।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ভার্মি কম্পোস্টে গাছের দরকারি নানা পুষ্টি উপাদান আর উপকারী অণুজীব থাকে, তাই মাটির গুণাগুণ ভালো করতে এটি কাজে আসে। একই সঙ্গে খামারের জৈব বর্জ্য সামলানোরও একটি সহজ উপায় এটি।
কেঁচো হিসেবে সাধারণত দেশি কেঁচো ও লাল কেঁচো ব্যবহার করা হয়। বাণিজ্যিকভাবে দ্রুত সার পেতে লাল কেঁচো (আইসেনিয়া ফোয়েটিডা) বেশি চলে, তবে স্থানীয় মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় দেশি কেঁচোরও ভূমিকা আছে।
সার বানানো যায় তিনভাবে: গর্ত বা পিট, চৌবাচ্চা বা ট্যাংক, আর বেড। খরচ কম আর কাজ সহজ বলে কৃষক ও ছোট উদ্যোক্তাদের কাছে বেড পদ্ধতিই জনপ্রিয়। পাকা মেঝে বা উপযুক্ত জায়গায় প্রায় চার ফুট চওড়া আর দেড় ফুটের মতো উঁচু বেড বানিয়ে তাতে স্তরে স্তরে জৈব উপকরণ দিতে হয়।
সবচেয়ে বড় সতর্কতা গোবর নিয়ে। টাটকা গোবর সরাসরি কেঁচোর ওপর দিলে অতিরিক্ত তাপ তৈরি হয়ে কেঁচো মারা যেতে পারে। তাই গোবর কয়েক দিন রেখে ঠান্ডা করে নিতে হবে, তারপর খড়, কচুরিপানা, আগাছা ও পাতার সঙ্গে মিশিয়ে আংশিক পচতে দিতে হবে। এরপরই বেডে কেঁচো ছাড়তে হয়।
বেডে পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না, আবার শুকিয়েও যেতে দেওয়া চলবে না: দরকারমতো নিয়মিত পানি ছিটিয়ে আর্দ্রতা ধরে রাখতে হবে। সরাসরি রোদ আর অতিরিক্ত গরম থেকেও বেড আড়াল করে রাখা জরুরি।
বড় অবকাঠামো ছাড়াই স্থানীয় গোবর আর কৃষিজ বর্জ্য দিয়ে ছোট পরিসরে উৎপাদন শুরু করা যায়। নিজের জমিতে ব্যবহারের পর বাড়তি সার আশপাশের কৃষক বা নার্সারিতে বিক্রি করে আয়ও করা যায়। তবে বাণিজ্যিকভাবে করতে চাইলে কেঁচোর উপযুক্ত জাত বাছাই, আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, কাঁচামালের ঠিকঠাক প্রস্তুতি আর তৈরি সার সংরক্ষণে বাড়তি নজর দিতে হবে বলে মনে করেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।
ছবি: মৌচুমী / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: এগ্রিকেয়ার২৪





মন্তব্য
(০)