যুক্তরাষ্ট্রে কৃষিজমি কৃষকের হাতছাড়া হওয়ার পেছনে ডেটা সেন্টার শুধু সবচেয়ে চোখে পড়া কারণ, আসল চাপ আরও বড়, এমন যুক্তি দিয়েছেন ন্যাশনাল ফ্যামিলি ফার্ম কোয়ালিশনের নির্বাহী পরিচালক টিম গিবনস এবং মন্টানার কৃষক, নর্দার্ন প্লেইনস রিসোর্স কাউন্সিলের ডিনা হফ। দ্য ডেইলি ইয়ন্ডারে প্রকাশিত লেখাটি পুনঃপ্রকাশ করেছে এজিডেইলি। মতামত লেখকদের নিজস্ব।
তাঁরা লিখেছেন, প্রযুক্তি কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের বিশাল প্রস্তাবও ফিরিয়ে দিচ্ছেন কৃষকেরা: কেন্টাকির এক কৃষক ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার, পেনসিলভানিয়ার আরেকজন দেড় কোটি ডলারের প্রস্তাব নেননি। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা জমি কিনছেন কৃষককেই ভাড়া দেওয়ার জন্যও, মূল্যস্ফীতি থেকে সম্পদ বাঁচানোর নিরাপদ উপায় হিসেবে।
২০২৪ সালের জমির মালিকানা ও হস্তান্তর জরিপ উদ্ধৃত করে লেখকেরা বলছেন, যে ২০ লাখের বেশি মালিক জমি ভাড়া দেন তাঁদের ৮৭ শতাংশ নিজে চাষ করেন না, বেশির ভাগ কখনো করেননি; তাঁরা ভাড়া বাবদ পেয়েছেন ৩৪০০ কোটি ডলারের বেশি। পেনশন তহবিল ও প্রাইভেট ইকুইটির মতো প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা কৃষিজমির মূল্য তিন বছরে দ্বিগুণের বেশি হয়ে ১৬৬০ কোটি ডলার। তাঁদের ভাষায়, চোখের সামনেই গ্রামে এক স্থায়ী, চাষ না করা জমিদার শ্রেণি তৈরি হচ্ছে।
তাঁদের মতে, জমি বিক্রির মূল কারণ হলো চাষে আর পোষাচ্ছে না: ২০১৭ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ ৫৯ হাজার পারিবারিক খামার বন্ধ হয়েছে, খামারের ঋণ রেকর্ড উচ্চতায়, আর কম ও অস্থির দাম এবং বড় কোম্পানির একচেটিয়া দাপটে অনেকের সামনে জমি বেচাই একমাত্র পথ।
সমাধান হিসেবে তাঁরা চান কেন্দ্রীয় আইন: মধ্য-পশ্চিমের অঙ্গরাজ্যগুলোর করপোরেট চাষবিরোধী আইনের আদলে ফার্মল্যান্ড ফর ফার্মার্স আইন, এমন কৃষি বিল যাতে কৃষকের জীবিকা চলে, আর নতুন প্রজন্মের কৃষক যেন ধনকুবেরদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা না করেই জমি কিনতে পারেন।
ছবি: Charles O'Rear, U.S. National Archives / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: AGDAILY





মন্তব্য
(০)