২০২০ সালের ৩০ জুলাই, বৃহস্পতিবার, ঈদুল আজহার দুই দিন আগে রাজধানীর ফার্মগেটে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত অনেক চাষি ও ব্যাপারীকে কোরবানির ছাগল নিয়ে রাস্তা ও গলিতে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করতে দেখা যায়। পশুর হাটে প্রত্যাশিত দাম না পেয়ে তাঁরা হাট ছেড়ে এভাবে ক্রেতা খুঁজছিলেন বলে জাগো নিউজকে জানান। করোনা মহামারি ও দীর্ঘ বন্যায় তখন দেশের বহু মানুষ আর্থিক চাপে ছিলেন; একদিকে কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য কমেছিল, অন্যদিকে টাকার প্রয়োজনে অনেকে পশু বিক্রি করতে চাইছিলেন। সেবার বাংলাদেশে ঈদুল আজহার দিন নির্ধারিত হয়েছিল ১ আগস্ট, শনিবার।
হাট ছেড়ে ফার্মগেটের রাস্তায়
নরসিংদী থেকে ছাগল নিয়ে আসা ব্যাপারী মো. ছবি জাগো নিউজকে জানান, তিন দিন আগে তিনি চারটি ছাগল এনেছিলেন। তার মধ্যে দুটি বিক্রি হয়েছিল, তাও যে দামে কিনেছিলেন সেই দামেই। নাখালপাড়ার পশুর হাটে ভালো দাম না ওঠায় বাকি দুটি ছাগল নিয়ে তিনি ফার্মগেটে চলে আসেন এবং মোড়সহ আশপাশের রাস্তা ও গলিতে ঘুরে সেগুলো বিক্রির চেষ্টা করছিলেন। তাঁর কথায়, ‘এবার ঘাটতি, সবারই ঘাটতি।’
আরেক ব্যাপারী রতন মিয়া জানান, কয়েক দিন আগে তিনি পাঁচ-ছয়টি ছাগল নিয়ে ঢাকায় আসেন এবং বিভিন্ন বাজার ও অলিগলি ঘুরে সেগুলো বিক্রি করেন। পরে আরও ছাগল এনে সেগুলোও একইভাবে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করছিলেন।

মহামারিতে কমেছিল ক্রেতার সামর্থ্য
২০২০ সালের ঈদুল আজহা এসেছিল কোভিড-১৯ মহামারির মধ্যে। ব্র্যাকের এক গবেষণার বরাত দিয়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান লাইটক্যাসল পার্টনার্স জানায়, লকডাউনের কারণে দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষের আয় পুরোপুরি বা আংশিক কমে যায়, ফলে কোরবানির পশু কেনার সামর্থ্যও কমে। ঈদের আগে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ২ জুলাইয়ের প্রতিবেদনে খামারিরা ২০ থেকে ৩০ শতাংশ ক্রেতা কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথা বলেছিলেন। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪০০ কেজির একটি গরু পালনে খরচ পড়ছিল প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
ঈদের চার দিন আগে, ২৮ জুলাই আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার সবচেয়ে বড় পশুর হাটে আগের বছরগুলোতে সপ্তাহে যেখানে চার লাখ পশু বিক্রি হতো, সেবার তা নেমে আসে ৩০ হাজারে। এই পরিস্থিতিতে অনলাইনে পশু কেনাবেচা বাড়ে; লাইটক্যাসল পার্টনার্সের তথ্যে ডিএনসিসি ডিজিটাল হাটসহ কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম কেনা থেকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত পুরো কোরবানির সেবা চালু করে।

চাহিদার চেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত ছিল
লাইটক্যাসল পার্টনার্সের তথ্য অনুযায়ী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সেবার কোরবানির উপযোগী ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ পশু প্রস্তুত থাকার হিসাব দেয়, যার মধ্যে ৪৫ লাখ ৩৮ হাজার ছিল গরু ও মহিষ, বাকি পশুর বড় অংশ ছাগল ও ভেড়া। হাটে ক্রেতা কম থাকায় ফার্মগেটের মতো রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ছাগল বিক্রির চেষ্টা সেই চাপেরই একটি চিত্র ছিল।
ছবি: Ragib Hasan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, আল জাজিরা, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, লাইটক্যাসল পার্টনার্স





মন্তব্য
(০)