সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ২ নভেম্বর ২০২৬
ঢাকা২৭°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৮০%বাতাস ৬ কিমি/ঘ

যে মেলা থেকে জোড়া ইলিশ নিয়ে বাড়ি ফেরেন ক্রেতারা

প্রতিবারের ন্যায় এবারো শরীয়তপুরের মনোহর বাজারে বসেছে ঐতিহ্যবাহী জোড় মাছের মেলা। পৌষের শেষ ও মাঘের শুরুতে হওয়া এই মেলার বয়স অন্তত দুইশ' বছর। এই মেলার বিশেষ আকর্ষণ জোড় ইলিশ মাছ আর বেগুন।

প্রতিবারের ন্যায় এবারো শরীয়তপুরের মনোহর বাজারে বসেছে ঐতিহ্যবাহী জোড় মাছের মেলা। পৌষের শেষ ও মাঘের শুরুতে হওয়া এই মেলার বয়স অন্তত দুইশ' বছর। এই মেলার বিশেষ আকর্ষণ জোড় ইলিশ মাছ আর বেগুন।

স্থানীয়রা জানায়, শরীয়তপুরের মনোহর বাজার ও তার আশপাশের এলাকার দুইশ' বছরের ঐতিহ্য ইলিশ মাছের মেলা। মাঘের শুরুর দিন সদর উপজেলার মধ্যপাড়া এলাকার কালি মন্দির মাঠে বসে এ মেলা। এদিন মেলায় আসা সবাই ঘরে ফিরেন জোড়া ইলিশ আর বেগুন নিয়ে। তাই এর নাম জোড় মাছের মেলা। মেলাকে ঘিরে ছোটদের আগ্রহও থাকে অনেক বেশি। বড়দের সঙ্গে মেলায় গিয়ে মিষ্টি খাওয়ায় পাশাপাশি বাহারি রঙের বেলুন আর খেলনা হাতে বাঁশিতে ফুঁ দিতে দিতে খুশি মনে বাড়ি ফেরে তারা৷ দিনটিকে ঘিরে এই অঞ্চলের প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে তৈরি হয় এক উৎসবের আমেজ। তবে ইলিশ মাছের দাম কিছুটা বাড়ায় হতাশ ক্রেতারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই অস্থায়ী খোলা মাঠে চৌকি পেতে ডালায় ইলিশ মাছের পসরা সাজিয়ে বসেছেন মাছ বিক্রেতারা। পাশেই রয়েছে সবজি, খেলনা আর নানা খাবারের দোকান। কনকনে শীতকে উপেক্ষা করে ক্রেতা বিক্রেতার হাক ডাকে জমে উঠে পুরো মেলা প্রাঙ্গণ।

স্থানীয় বাসিন্দা বাবুল সাহা বলেন, আগে বাবার সঙ্গে মেলায় আসতাম। এখন আমি আমার সন্তানদের নিয়ে মেলায় আসি। এই মেলা আমাদের ঐতিহ্য। আমরা মাঘের শুরুর দিন মেলায় এসে জোড়া ইলিশ আর জোড়া বেগুন কিনে ঘরে ফিরি।

মেলায় আসা সৌম্য দাস বলেন, প্রতিবারের ন্যায় এবারো জোড় মাছের মেলা বসেছে। মেলাকে কেন্দ্র করে আমাদের এলাকায় এখন উৎসবের আমেজ বইছে। বাচ্চারা মেলায় এসে নানা খেলনা কিনছে। নানা ধরনের খাবারের দোকান বসেছে। তবে এবছর মাছের দামটা একটু বেশি।

ফরিদ বেপারী নামের এক ব্যক্তি বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি মাঘের শুরুতে এখানে মাছের মেলা বসে। আমরাও এই মেলায় আসি, ইলিশ মাছ কিনি।

বাপ-দাদার আমল থেকে মেলায় বংশানুক্রমে মাছ বিক্রি করে আসছেন স্থানীয় মাছ বিক্রেতারা। মেলা উপলক্ষে মাত্র তিন ঘণ্টায় বিক্রি হয় কয়েক লাখ টাকার মাছ। আর মাছের দাম ভালো পাওয়ার খুশি বিক্রেতারাও।

গৌতম দাস নামের এক মাছ ব্যবসায়ী বলেন, আমার বাবা আগে এখানে মাছ বিক্রি করতেন, তার আগে তার বাবা মাছ বিক্রি করেছেন, এখন আমি মাছ বিক্রি করি। ভোর থেকে শুরু হয়ে এই মেলাটি চলে সকাল ১০টা পর্যন্ত। এই কয়েক ঘণ্টায় এখানে অন্তত ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হয়। এবছর মাছের দাম ভালো পাওয়ার আমরা খুশি।

পুরনো এই মেলাটি ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। তাই ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে মেলাটির আয়োজনের কথা জানান আয়োজক কমিটি।

মেলার আয়োজক কমিটির সদস্য সুজিত দাস বলেন, পুরনো এই জোড় মাছের মেলাটি হিন্দু মুসলিম সম্প্রদায়ের সম্প্রীতির বন্ধনের এক দৃষ্টান্ত উদাহরণ। মেলাটি একসময় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের হলেও কালের বিবর্তনে এখন সবাই এই মেলায় অংশ নেয়। হিন্দুদের ন্যায় মুসলিম ধর্মের মানুষেরা এই মেলায় আসে, ইলিশ মাছ কিনে নেয়। আমরা ধারাবাহিকতার সঙ্গে মেলাটি আগামীতেও পরিচালনা করে যাবো।

বিধান মজুমদার অনি/এনএইচআর/এমএস

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

সিংড়ার লাড়কিবাড়ী বিলে বিষ, সামাজিক মাছ চাষে চার লাখ টাকার ক্ষতি

নাটোরের সিংড়ায় চার দশক ধরে সামাজিকভাবে মাছ চাষ হওয়া লাড়কিবাড়ী বিলে রাতে কীটনাশক দেওয়ায় প্রায় চার লাখ টাকার মাছ মরেছে; বিলের দখল নিয়ে বিরোধকে দায়ী করছেন চাষিরা।

সমকাল২ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

ডাম্পিং স্টেশন নেই, পৌরসভার বর্জ্য আর পয়োনিষ্কাশনের পানি যাচ্ছে ভৈরবের মেঘনায়

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নদীর তীরে ময়লার স্তূপ, সরাসরি নদীতে পড়ছে পৌরসভার বর্জ্য ও প্লাস্টিক, ভরাট হচ্ছে খাল-বিল; জলজ প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য হুমকিতে।

দৈনিক বাংলা২ নভেম্বর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দুই বছর ধরে কমছে ইলিশ, ৫.৭১ লাখ থেকে ৫ লাখ টনে

দুই দশকে দ্বিগুণের বেশি বাড়ার পর ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইলিশ উৎপাদন কমেছে; গবেষকেরা দুষছেন দুর্বল বাস্তবায়ন, নদীদূষণ, চরের পরিবর্তন আর অপরিকল্পিত বালু উত্তোলনকে।

বাংলা ট্রিবিউন২ নভেম্বর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)