মানুষ নানাভাবে অন্যকে খুশি করার চেষ্টা করে, অথচ দুনিয়া ও আখিরাতের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপর। সুরা তাওবার ৭২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর সন্তুষ্টিই সবচেয়ে বড়, এটাই মহাসাফল্য। এই কথা দিয়ে শুরু করে বাংলানিউজের ইসলাম পাতা কোরআন ও হাদিসের আলোকে এমন দশটি আমলের কথা লিখেছে, যেগুলোতে আল্লাহ বেশি খুশি হন।
প্রথম আমল আন্তরিক তাওবা। সুরা বাকারার ২২২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ অধিক তাওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালোবাসেন। সহিহ মুসলিমের ২৭৪৭ নম্বর হাদিসে আছে, মরুভূমিতে হারানো বাহন ফিরে পাওয়া মানুষের চেয়েও আল্লাহ বান্দার তাওবায় বেশি আনন্দিত হন। দ্বিতীয়টি ফরজ ইবাদত যথাযথভাবে আদায়: সহিহ বুখারির ৬৫০২ নম্বর হাদিসে বলা হয়েছে, বান্দার নৈকট্য অর্জনের কাজের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় সেগুলো, যা তিনি ফরজ করেছেন।
তৃতীয় আমল তাকওয়া। সুরা হুজুরাতের ১৩ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই বেশি সম্মানিত, যে বেশি তাকওয়াসম্পন্ন। চতুর্থটি মানুষের সঙ্গে সদাচার: মা-বাবার প্রতি সদাচরণ, আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা, প্রতিবেশীর খোঁজ নেওয়া ও অসহায়কে সাহায্য করা। সুরা বাকারার ১৯৫ নম্বর আয়াতে আছে, আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালোবাসেন।
পঞ্চম আমল ধৈর্য। সুরা আলে ইমরানের ১৪৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন। সহিহ মুসলিমের ২৯৯৯ নম্বর হাদিসে মুমিনের অবস্থাকে বিস্ময়কর বলা হয়েছে: সুখে সে কৃতজ্ঞ হয়, বিপদে ধৈর্য ধরে, দুটিই তার জন্য কল্যাণ। ষষ্ঠটি আল্লাহর পথে ব্যয় ও অসহায়দের সহযোগিতা। সহিহ মুসলিমের ২৬৯৯ নম্বর হাদিসে বলা হয়েছে, যে কোনো মুমিনের দুনিয়ার একটি কষ্ট দূর করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার একটি কষ্ট দূর করবেন।
সপ্তম আমল রাগ সংবরণ ও ক্ষমা। সুরা আলে ইমরানের ১৩৪ নম্বর আয়াতে ক্রোধ সংবরণকারী ও মানুষকে ক্ষমাকারীদের কথা আছে। সহিহ মুসলিমের ২৫৮৮ নম্বর হাদিসে বলা হয়েছে, দানে সম্পদ কমে না, ক্ষমায় আল্লাহ বান্দার সম্মান বাড়িয়ে দেন। অষ্টমটি আল্লাহর ওপর ভরসা: সুরা আলে ইমরানের ১৫৯ নম্বর আয়াতে আছে, আল্লাহ ভরসাকারীদের ভালোবাসেন। লেখায় বলা হয়েছে, তাওয়াক্কুল মানে হাত গুটিয়ে বসে থাকা নয়, সাধ্যমতো চেষ্টার পর ফল আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়া।
নবম আমল ন্যায়বিচার ও ইনসাফ। সুরা মায়িদার ৪২ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ ন্যায়বিচারকারীদের ভালোবাসেন; পরিবার, সমাজ, ব্যবসা ও রাষ্ট্রীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে ইনসাফ করার কথা বলা হয়েছে। দশমটি নফল ইবাদত: তাহাজ্জুদ, নফল নামাজ ও রোজা, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়া। সহিহ বুখারির একই হাদিসে আছে, বান্দা নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করতে থাকে, অবশেষে আল্লাহ তাকে ভালোবেসে ফেলেন। লেখায় এর ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, আল্লাহ তখন বান্দাকে তাঁর পছন্দের কাজে পরিচালিত করেন এবং অপছন্দের কাজ থেকে রক্ষা করেন।
ছবি: Hayri Brahimbashev / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪




মন্তব্য
(০)