ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, নির্দিষ্ট সময়ে শিঙায় ফুঁ দেওয়ার মাধ্যমে কেয়ামত সংঘটিত হবে, আর সেই সময়ের জ্ঞান আল্লাহ ছাড়া কারও নেই। তবে উম্মতকে সতর্ক করতে মহানবী (সা.) কেয়ামতের আগের কিছু লক্ষণ জানিয়ে গেছেন। প্রথম আলোর ধর্ম পাতায় এহসান সিরাজ লিখেছেন, এসব আলামত দুই ভাগে দেখা হয়: দাজ্জালের আগমন ও নবী ইসা (আ.)-এর অবতরণের মতো বড় আলামত, আর দৈনন্দিন জীবনে দেখা যায় এমন ছোট আলামত।
প্রথম আলামত মেষপালকদের সুউচ্চ ভবন নির্মাণ। হাদিসে জিবরিলে বর্ণিত আছে, ফেরেশতা জিবরিল (আ.) আলামত সম্পর্কে জানতে চাইলে নবীজি বলেন, নগ্নপদ, বস্ত্রহীন ও অভাবগ্রস্ত মেষপালকেরা একসময় উঁচু প্রাসাদ গড়ার প্রতিযোগিতায় নামবে (সহিহ মুসলিম, হাদিস ৮)।
দ্বিতীয়টি আমানত নষ্ট হওয়া। এক বেদুইন কেয়ামতের সময় জানতে চাইলে মহানবী (সা.) বলেন, যখন আমানত নষ্ট করা হবে, তখন কেয়ামতের অপেক্ষা করো। আমানত কীভাবে নষ্ট হবে, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, যখন কোনো দায়িত্ব অযোগ্য ব্যক্তির হাতে দেওয়া হবে (সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৯)।
তৃতীয় আলামত ধর্মীয় জ্ঞান উঠে যাওয়া ও অজ্ঞতা ছড়িয়ে পড়া। সহিহ বুখারির ৮০ নম্বর হাদিসে বলা হয়েছে, ধর্মীয় জ্ঞান তুলে নেওয়া হবে, মূর্খতা ব্যাপক হবে, মদ্যপান বাড়বে এবং ব্যভিচার প্রকাশ্য হবে। লেখকের ব্যাখ্যায়, জ্ঞান তুলে নেওয়া মানে প্রকৃত আলেমদের বিদায় এবং মানুষের অজ্ঞদের নেতা বানিয়ে তাদের ভুল ব্যাখ্যা গ্রহণ।
চতুর্থটি সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাওয়া। সুনানে তিরমিজির ২৩৩২ নম্বর হাদিসে আছে, বছর হবে মাসের মতো, মাস সপ্তাহের মতো, সপ্তাহ দিনের মতো, দিন ঘণ্টার মতো এবং ঘণ্টা আগুন জ্বলে ওঠার মতো। পঞ্চম আলামত ব্যাপক হত্যাকাণ্ড: সহিহ মুসলিমের ২৯০৮ নম্বর হাদিসে বলা হয়েছে, এমন যুগ আসবে যখন হত্যাকারী জানবে না কেন হত্যা করছে, নিহতও জানবে না কী অপরাধে তাকে মারা হলো।
লেখকের মতে, এসব ছোট আলামত মুমিনদের জন্য সতর্কবার্তা। এগুলো দেখে হতাশ বা আতঙ্কিত না হয়ে বেশি বেশি ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং নিজের আমল পরিশুদ্ধ করাই ইসলামের শিক্ষা বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
ছবি: আব্বাসীয় যুগের অজ্ঞাত লিপিকার / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)