অনেক অভিভাবক মনে করেন, চার বা পাঁচ বছর বয়স কোরআন বা কায়দা পড়া শেখার জন্য খুব কম। প্রথম আলোর ইসলাম বিভাগে মনযূরুল হক লিখেছেন, যে বয়সে দুই-তিন বছরের শিশু প্রযুক্তি ব্যবহার করতে আর বর্ণমালা চিনতে শেখে, সে বয়সেই তাকে কায়দা ও কোরআনের প্রাথমিক পাঠে অভ্যস্ত করা সম্ভব; দরকার অভিভাবকের ধৈর্য, ভালোবাসা আর ধারাবাহিকতা।
লেখক তিনটি দ্বিধার কথা বলেছেন। শিশু খুব ছোট, এই ভাবনার জবাবে তিনি লিখেছেন, শেখানো মানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা নয়; কায়দা পড়ে বর্ণ চিনে নিজে দেখে পড়ার দক্ষতা শৈশবে যত সহজে আসে, বয়স বাড়লে তত কঠিন হয়। অভিভাবক নিজে পড়তে না পারলে অভিজ্ঞ শিক্ষক বা মসজিদের মক্তবের সাহায্য নেওয়া যায়, তবে বাড়িতে অনুশীলনের সময় অভিভাবকের উপস্থিতি শিশুকে উৎসাহ দেয়। আর সময় না থাকার বিষয়টিকে তিনি অগ্রাধিকারের প্রশ্ন হিসেবে দেখেছেন।
তাঁর পরামর্শ, প্রতিদিন দীর্ঘ সময় না দিয়ে সপ্তাহে অন্তত চার দিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট পড়ানো; শুরুতে পাঁচ মিনিট দিয়ে শুরু করে ধীরে সময় বাড়ানো। কায়দার একটি পৃষ্ঠা ভালোভাবে পড়া বা নতুন কঠিন শব্দ আয়ত্ত করার মতো ছোট অর্জনে ছোট উপহার, পার্কে বেড়ানো বা পছন্দের খাবারে উৎসাহ দেওয়া যায়।
কোনো শব্দ বা আয়াত শিখতে শিশুর দুই সপ্তাহও লাগতে পারে, তাই তাড়াহুড়ো না করার কথা বলেছেন লেখক। শিশুকে স্থানীয় মসজিদের মক্তব বা দলীয় পাঠে যুক্ত করলে সে অন্যদের দেখে দ্রুত শেখে; আর শিশু পড়তে বসলে পরিবারের অন্যরাও মোবাইল ও বিনোদন থেকে দূরে থাকলে সে পরিবেশ শিশুকে প্রভাবিত করে।
লেখক মনে করিয়ে দিয়েছেন, সাহাবি আবু দারদা (রা.) দামেস্কের প্রধান মসজিদে শিশুদের ছোট দলে ভাগ করে শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে কোরআন শেখানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। তিনি সহিহ বুখারির হাদিস উদ্ধৃত করেছেন, যিনি সাবলীলভাবে কোরআন পড়েন তিনি সম্মানিত ফেরেশতাদের সঙ্গে থাকবেন, আর যিনি আটকে আটকে কষ্ট করে পড়েন তাঁর জন্য দ্বিগুণ পুরস্কার (হাদিস: ৪৯৩৭)। তাই শিশু ভুল করলে হতাশ না হয়ে কোরআন শেখাকে ভয়ের বদলে ভালোবাসার স্মৃতি করে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ছবি: Jan Broekhuijse / ট্রপেনমিউজিয়াম / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0); কোরআন শিক্ষার পাঠশালায় শিশুরা
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)