সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে বছরে প্রায় ৮৪ হাজার টন কঠিন বর্জ্য তৈরি হয়, যার বেশির ভাগ কাজে লাগানো হচ্ছে না। এই বর্জ্যকে সম্পদে রূপ দিতে একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতি প্রণয়নের দাবি উঠেছে ঢাকার এক নীতি সংলাপে।
বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড) ও দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশন সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে "বর্জ্য থেকে সম্পদ: চামড়া শিল্পজাত কঠিন বর্জ্য উপজাত উদ্যোক্তা মডেল" শীর্ষক এ সংলাপের আয়োজন করে।
মূল প্রবন্ধে বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম জানান, এই বর্জ্যের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ক্রোমিয়ামমুক্ত বিমহাউস ট্রিমিংস ও ফ্লেশিং। এগুলো থেকে জেলাটিন, কোলাজেন, প্রোটিন মিল ও ট্যালোর মতো দামি পণ্য তৈরি করা সম্ভব। কিন্তু দুর্বল নীতি কাঠামো, অস্পষ্ট বর্জ্য কোড এবং উৎসেই বর্জ্য আলাদা করার নিয়ম না থাকায় এর বেশির ভাগ অব্যবহৃত থাকছে বা যেখানে-সেখানে ফেলা হচ্ছে।
তার উপস্থাপনায় বাণিজ্যিক বায়োরিফাইনারি থেকে শুরু করে ছোট ও মাঝারি পর্যায়ের ট্যালো নিষ্কাশন ইউনিট পর্যন্ত কয়েকটি ব্যবসায়িক মডেল তুলে ধরা হয়। এসব কাজে লাগালে জেলাটিন, আঠা, জুতার সোল ও পোলট্রি খাদ্যের সংযোজক আমদানিতে বছরে প্রায় ১০ কোটি মার্কিন ডলার সাশ্রয় হতে পারে বলে জানানো হয়।
প্রধান অতিথি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব স্মৃতি কর্মকার বলেন, চামড়া শিল্পের কঠিন বর্জ্যকে শুধু পরিবেশ বা নদীদূষণের সমস্যা হিসেবে না দেখে সঠিক প্রযুক্তির মাধ্যমে নতুন ব্যবসা, বিনিয়োগ ও সবুজ উদ্যোক্তা তৈরির সম্পদ হিসেবে দেখা উচিত। গবেষণার সুপারিশ পর্যালোচনা করে নীতিগত পদক্ষেপ নিতে মন্ত্রণালয় বিল্ড ও অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি।
বিল্ডের চেয়ারপারসন আবুল কাসেম খান বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উপজাত প্রকল্পে পুঁজি দিতে চাইলেও কাঁচামালের তীব্র ঘাটতিতে পড়ছেন। নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ফারাক কমাতে মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়ের ওপর জোর দেন তিনি।
ছবি: প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্ট / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)