ময়মনসিংহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বোটানিক্যাল গার্ডেনে প্রায় ১ হাজার ৮০০ প্রজাতির ভাসকুলার উদ্ভিদ রয়েছে বলে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে। এর মধ্যে বৃক্ষ প্রায় ৪১০ প্রজাতির। সংগ্রহে আছে বিরল, বিপন্ন ও হুমকির মুখে থাকা কিছু প্রজাতিও।
পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে প্রায় ২৫ একর জায়গাজুড়ে গার্ডেনটি। ১৯৬৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফসল উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এখন এটি উদ্ভিদ সংরক্ষণ, শিক্ষা ও গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।
দেশি-বিদেশি নানা উদ্ভিদ এখানে আছে: অ্যাভোকাডো, আফ্রিকান টিউলিপ, জ্যাকারান্ডা, টাবেবুইয়া, ডুরিয়ান, নাগেশ্বরচাপা, নাক্সভোমিকা, পারসিমন, প্যাশন ফ্রুট, রাজ অশোক, শাল, সুলতানচাঁপা, সর্পগন্ধা, স্বর্ণ অশোক ও হলুদ কাঞ্চনসহ আরও অনেক প্রজাতি।
বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষার্থীরা এখানে উদ্ভিদ চেনার হাতেকলমে শিক্ষা পান। স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণাতেও গার্ডেনের উদ্ভিদসম্ভার ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে উদ্ভিদ শনাক্তকরণ, সংরক্ষণ ও প্রজাতিভিত্তিক গবেষণায়।
ক্লাস-পরীক্ষার বাইরে শিক্ষার্থীদের কাছে এটি বিশ্রামের জায়গাও। নদীর পাড়ঘেঁষা বেঞ্চে বসে পুরনো ব্রহ্মপুত্রে নৌকা চলাচল দেখা যায়।
কৃষি শিক্ষার একটি প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এত প্রজাতির উদ্ভিদ একসঙ্গে সংরক্ষিত থাকায় এটি দেশের উদ্ভিদ জিনসম্পদ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার একটি জীবন্ত ভান্ডারও।
লেখাটি বাকৃবির ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহফুজা আক্তার ইমার।
ছবি: Ashis Saha / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: দেশ রূপান্তর





মন্তব্য
(০)