সুইডেনের বিশেষ চর্বি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান এএকে (AAK) প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিক পরিসরে তাদের পেটেন্ট করা ড্রাই ফ্র্যাকশনেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করবে, মালয়েশিয়ার পাসির গুদাংয়ে নির্মাণাধীন নুরা স্পেশালটি অয়েলস অ্যান্ড ফ্যাটস কারখানায়, যা মালয়েশীয় প্রতিষ্ঠান কেএলকের সঙ্গে তাদের যৌথ উদ্যোগ। ৬ অক্টোবর গ্রিন কুইন জানিয়েছে, কারখানাটি পাম তেলের মধ্য-অংশ (পাম মিড-ফ্র্যাকশন) তৈরি করবে, যা চকলেট ও মিষ্টান্নে কোকো বাটারের সমতুল্য বিকল্প তৈরির মূল উপাদান।
এক বছর আগে যৌথ উদ্যোগে যুক্ত হয়ে এএকে তিন বছরে ৩০ কোটি সুইডিশ ক্রোনা, প্রায় ৩ কোটি ডলার বিনিয়োগের অঙ্গীকার করে। আগস্টে নির্মাণ শুরু হয়েছে; ২০২৮ সালে উৎপাদন ধীরে ধীরে শুরু এবং ২০২৯ সালে পূর্ণ উৎপাদনের পরিকল্পনা। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এতে তাদের চকলেট-চর্বির ব্যবসার জন্য বিশুদ্ধ কাঁচামালের জোগান নিশ্চিত হবে।
এএকের প্রক্রিয়া উন্নয়ন প্রধান ইয়েপে লিন্ডেগার্ড ইয়র্থ বলেন, গবেষণা প্রকল্প থেকে এই প্রযুক্তিকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে নিয়ে আসা প্রতিষ্ঠানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ইউরোপে কৌশল ও প্রকল্প পরিচালক আলেক্সান্ডার পেরলাকির মতে, প্রযুক্তিটি অন্যান্য ব্যবসাতেও কাজে লাগানো যাবে।
কোকো নিয়ে চাপে থাকা চকলেট শিল্পের প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ। গ্রিন কুইনের তথ্যমতে, ২০২৪ সালে বিশ্বে কোকোর মজুত এক দশকের সর্বনিম্নে নামে এবং দাম রেকর্ড ছোঁয়, আর চরম আবহাওয়া ফসলের ক্ষতি করছে। এএকে ইলেক্সাও নামে কোকো বাটারের যে বিকল্প বিক্রি করে, তা আংশিক বা পুরোপুরি কোকো বাটারের জায়গা নিতে পারে বলে প্রতিষ্ঠানটির দাবি।
অন্য কিছু প্রতিষ্ঠান প্রিসিশন ফার্মেন্টেশন, ব্যাকটেরিয়া বা উদ্ভিদকোষ চাষে কোকো বাটার তৈরির চেষ্টা করছে; এএকের পথটি পাম তেলের অংশবিভাজনের ওপর দাঁড়িয়ে, আর প্রতিষ্ঠানটি নুরাকে এই প্রক্রিয়ার প্রথম প্রয়োগ বলছে।
সূত্র: Green Queen


মন্তব্য
(০)