সরকারের ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আওতায় সুনামগঞ্জে লাগানো বেশির ভাগ চারা মরে যাচ্ছে। পরিবেশকর্মীদের ভাষ্য, সঠিকভাবে রোপণ না করা এবং পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে চারাগুলো টিকছে না। যত চারা লাগানোর কথা, তাও লাগানো হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
বন, বন্যপ্রাণী, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সবুজ বেষ্টনী গড়তে ‘ন্যাশনাল গ্রিন মিশন’ নামে দেশজুড়ে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। কর্মপরিকল্পনার একটি পত্র অনুযায়ী, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অংশে প্রতিটি গাছে সরকারের খরচ ৮৩৮ টাকা—চারা কেনা ২০০ টাকা, রোপণ ৫৩৩ টাকা, পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ ১০৫ টাকা।
এলজিইডি সুনামগঞ্জ জানায়, এ বছর জেলায় ১০ হাজার চারা লাগানো হবে; সদরে ১ হাজার, শান্তিগঞ্জে ১ হাজার, জগন্নাথপুরে ৫০০, দিরাইয়ে ৫০০ ও ছাতকে ২ হাজার চারা লাগানো হয়েছে। কিন্তু মাঠের চিত্রের সঙ্গে এ তথ্যের মিল নেই। দিরাইয়ে কাগজে কুলঞ্জ গ্রামে ৫০০টি এবং ১৬৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনটি করে ৪৮৯টি গাছ লাগানোর কথা থাকলেও তার গ্রহণযোগ্য তথ্য মেলেনি; এক প্রধান শিক্ষক জানান, সরকারি চারা না পেয়ে নিজ খরচে গাছ লাগিয়েছেন।
জামালগঞ্জের দুই সড়কে ২ হাজার চারা লাগানোর কথা, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ লাখ ৭৭ হাজার ২০০ টাকা; লাগানো হয়েছে ৫০০-র কিছু বেশি। নয়াহালট-চাঁনপুর অংশে গুনে প্রায় আড়াই শ চারা পাওয়া গেছে, যার বেশির ভাগ মরে গেছে; বেড়া দেওয়া হয়েছে মশারির মতো জাল দিয়ে। তাহিরপুরে বরাদ্দ থাকলেও বৃক্ষরোপণের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, জেলায় মোট ১০ হাজার গাছ লাগানো হবে, এর মধ্যে ৫ হাজার লাগানো হয়েছে; বাকিগুলো কেন লাগানো হয়নি, তা জানতে চাওয়া হবে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান বলেন, অনিয়মের অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে। বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রিয়াজ উদ্দিন জানান, তাঁরা ২৭ লাখ গাছ লাগানোর প্রস্তাব পাঠিয়েছেন, যা এখনো অনুমোদন পায়নি।
পরিবেশ সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সুনামগঞ্জের সদস্য সজল কান্তি সরকার বলেন, গাছ লাগানোর পর আর খোঁজ রাখা হয় না; রোপণের চেয়ে সংরক্ষণ ও পরিচর্যা বেশি জরুরি, আর জবাবদিহি না থাকায় বৃক্ষরোপণেও অনিয়ম হচ্ছে। প্রতিবেদনটি আজকের পত্রিকার সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি বিশ্বজিত রায়ের।
সূত্র: আজকের পত্রিকা





মন্তব্য
(০)