'গরুর মাংসের শুঁটকি' লিখে ফেসবুকে খুঁজলে সামনে চলে আসে অসংখ্য ছবি, ভিডিও ও বিজ্ঞাপন। কেউ অনলাইনে বিক্রি করছেন মাংসের শুঁটকি, কেউ মাংসের আচার, আবার কেউ ভিডিও পোস্ট করে দেখাচ্ছেন কীভাবে শুঁটকি ভুনা, ভর্তা বা ঝাল রান্না করতে হয়।
একসময় যেটি ছিল মূলত গ্রামের ঘরোয়া সংরক্ষণ পদ্ধতির অংশ, সেটিই এখন ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে অনলাইন ব্যবসা, ফুড ভ্লগ ও শহুরে খাবারের তালিকায়।
পদ্ধতিটির জন্ম প্রয়োজনে। ঈদুল আজহার সময় কোরবানির মাংস সংরক্ষণের উপায় হিসেবে অনেক পরিবার গরুর মাংসের শুঁটকি তৈরি করত, কারণ আগে ধনী-গরিব নির্বিশেষে ঘরে ঘরে রেফ্রিজারেটর ছিল না। মাংসে লবণ, হলুদ ও বিভিন্ন মসলা মাখিয়ে রোদে শুকিয়ে নিলে তা দীর্ঘদিন ভালো থাকত এবং পরে রান্না করে খাওয়া যেত।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল, উপকূলীয় অঞ্চল ও কিছু গ্রামীণ এলাকায় যুগ যুগ ধরে মাছের পাশাপাশি মাংসের শুঁটকিও করা হতো এবং কোথাও কোথাও এখনও তা টিকে আছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, এশিয়া, আফ্রিকা ও আমেরিকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলে রোদে বা কৃত্রিম উপায়ে শুকানো মাংসের কদর রয়েছে।
রেফ্রিজারেটর আসার পর সংরক্ষণের প্রয়োজনটি ফুরিয়েছে — কোরবানির ঈদে মাংস রান্না ও বিতরণের পর এখন আর সংরক্ষণ নিয়ে ভাবতে হয় না। তবু কারও কারও আগ্রহ কমেনি, তারা নিজেদের খাওয়ার জন্যই শুঁটকি তৈরি করেন।
অনলাইনে বিক্রির হিড়িক দেখেই বোঝা যায় চাহিদা ফিরছে, আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন ব্যবসার কারণে খাবারটি নতুন করে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। অনেকে এখন একে ঐতিহ্যবাহী খাবার হিসেবেও তুলে ধরছেন।
স্মৃতির দিকটিও আছে। যশোরের বেনাপোলে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা মো. কাউসার আহমেদ, যার জন্ম ও বেড়ে ওঠা জামালপুর জেলায়, বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, ছোটবেলায় কোরবানির ঈদে তিনি গ্রামের প্রত্যেক ঘরেই গরুর মাংসের শুঁটকি বানাতে দেখতেন, কারণ তখন ফ্রিজ ছিল না। শুঁটকি তৈরির জন্য সাধারণত মাংস পাতলা বা ছোট টুকরো করে কাটা হয়।
সূত্র: বিবিসি বাংলা





মন্তব্য
(০)