কলম্বিয়া এমন একটি জাতীয় আইন করেছে, যাতে দেশটির গরুর মাংস ও দুগ্ধ সরবরাহ শৃঙ্খলকে প্রমাণ করতে হবে যে তাদের পণ্য সাম্প্রতিক বন উজাড়ের সঙ্গে জড়িত নয়। ২০২৬ সালের ৪ জুন কার্যকর হওয়া লেই ২৫৮৫ দে ২০২৬-এ টেকসই ও বন উজাড়মুক্ত গবাদিপশু সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য কাঠামো ঠিক করে দেওয়া হয়েছে এবং কৃষি ট্রেসেবিলিটিকে যুক্ত করা হয়েছে বন পর্যবেক্ষণ, ভূমি নিবন্ধন ও সম্পত্তির নথির সঙ্গে।
সিজিআইএআর ক্লাইমেট অ্যাকশন কর্মসূচির আওতায় অ্যালায়েন্স অব বায়োভার্সিটি ইন্টারন্যাশনাল ও সিআইএটি-র নেতৃত্বে করা কারিগরি কাজ আইনটির তিনটি বিধানে ভূমিকা রেখেছে। অ্যালায়েন্স কলম্বিয়ার মাংস ও দুধের জিরো ডিফরেস্টেশন অ্যাগ্রিমেন্টের কারিগরি সচিবালয় পরিচালনা করে এবং বছরের পর বছর ধরে কাজ করছে সেই ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা নিয়ে, যার ওপর আইনটি এখন দাঁড়িয়ে।
৭ নম্বর অনুচ্ছেদ ওই চুক্তিগুলোকে আনুষ্ঠানিক মর্যাদা দিয়েছে। বন উজাড় কমাতে কাজ করা সরকারি সংস্থা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, উৎপাদক সংগঠন ও অন্যদের এক জায়গায় আনে এই চুক্তি; আইনের অধীনে এখন তারা পরামর্শদাতা সংস্থা হিসেবে ভালো চর্চা ও বাস্তবায়নের ব্যবস্থা তৈরিতে সহায়তা করবে। খসড়া বিলের গণশুনানিতে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকে সচিবালয়গুলো এই দাবিই তুলেছিল — চুক্তিগুলো যেন স্বেচ্ছামূলক ব্যবস্থা না থেকে আইনি স্বীকৃতি পায়।
৮ নম্বর অনুচ্ছেদের বিষয় গরু ও মহিষ পালনের কলম্বীয় পরিবেশ সনদ এনটিসি ৬৫৫০:২০২১। আইন অনুযায়ী এই মানদণ্ডকে জাতীয় বন উজাড়মুক্ত নীতিকে সমর্থন করতে হবে এবং যুক্ত থাকতে হবে পশু শনাক্তকরণের তথ্য, বন পর্যবেক্ষণ, ভূমি জরিপ ও সম্পত্তি নিবন্ধনের সঙ্গে। অ্যালায়েন্স কারিগরি কর্মদল গঠন করে সনদে বন উজাড়মুক্ত শর্ত ঢোকানোর ব্যবস্থা করেছে। বাস্তবে এটি কতটা কাজে দেবে তা নির্ভর করবে মানদণ্ডটি কীভাবে হালনাগাদ ও প্রয়োগ হয় তার ওপর।
১২ নম্বর অনুচ্ছেদ সরকারকে বাধ্য করেছে সক্রিয় বন উজাড়ের এলাকাগুলোতে তথ্যব্যবস্থা ও পর্যবেক্ষণের জন্য অর্থায়নের পথ তৈরি করতে এবং এ কাজে ফোন্দো পারা লা ভিদা ই লা বায়োদিভার্সিদাদ-এর অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দিয়েছে। আইন প্রণয়নের পাশাপাশি সিআইএটি কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় পরিকল্পনা বিভাগের সঙ্গে কাজ করেছে প্রোইয়েক্তোস তিপো প্রমিতকরণে — এগুলো এমন নমুনা প্রকল্প, যা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সরকারি তহবিলের আবেদনে নিজের মতো করে কাজে লাগাতে পারে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, "সিআইএটি বায়োডাইভার্সিটি অ্যালায়েন্স কৃষি মন্ত্রণালয়কে টেকসই গবাদিপশু ট্রেসেবিলিটি মডেল ও বন উজাড় পর্যবেক্ষণ বাস্তবায়নের প্রকল্প প্রমিতকরণে সহায়তা করছে; এতে বন উজাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ পৌরসভাগুলো সরকারি তহবিল পাওয়ার সুযোগ পাবে।"
আইনটি একটি নীতিগত অর্জন, তৈরি ব্যবস্থা নয়। মন্ত্রণালয়গুলোকে এখন বিধিমালা লিখতে হবে, মানদণ্ড হালনাগাদ করতে হবে, তথ্যব্যবস্থাগুলোকে একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে এবং উৎপাদকদের শর্ত পূরণে সহায়তা করতে হবে। অ্যালায়েন্সের পরের কাজ, অনুমোদনের পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ওই প্রমিত ট্রেসেবিলিটি প্রকল্পগুলো ব্যবহারে সহায়তা করা।
সূত্র: সিজিআইএআর (CGIAR)





মন্তব্য
(০)