কারসাজি করে ডিম ও মুরগির দাম বাড়ানোর চেষ্টা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম। তবে পোলট্রি খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, অতিরিক্ত গরমে ডিমের উৎপাদন কমে যাওয়াতেই বাজারে দাম বেড়েছে; পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে দাম কমে আসতে পারে।
বুধবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে ডিম ও পোলট্রি পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখা নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় এসব কথা উঠে আসে। সভায় বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
জহিরুল ইসলাম বলেন, ডিমের দাম যৌক্তিক ও সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে। উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে ক্রয়-বিক্রয়ের যথাযথ রসিদ সংরক্ষণ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফিডের মান নিয়ে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাজার থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হবে বলেও জানান তিনি। প্রান্তিক খামারিদের টিকিয়ে রাখতে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপরও জোর দেন তিনি।
বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) প্রচার সম্পাদক ডা. সফিকুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত গরমে ডিমের উৎপাদন কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। তবে উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় ডিমের দাম কমে যাওয়ায় একের পর এক প্রান্তিক খামার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
খরচের বড় চাপ আসছে ফিড থেকে। বাংলাদেশ ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক জানান, পোলট্রি ফিডের প্রায় ৭০ শতাংশ আমদানিনির্ভর এবং ফিডের দাম বেড়েছে। ডিসেম্বরে বাড়তি দামের ফিড বাজারে এলে ভবিষ্যতে ডিম ও মুরগির দাম আরও বাড়তে পারে।
ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, উৎপাদন ব্যয় ও বাজারমূল্যের সামঞ্জস্যের পাশাপাশি ভোক্তার স্বার্থও বিবেচনায় নিতে হবে। সিন্ডিকেশনের অভিযোগ প্রসঙ্গে কাজী ফার্মসের প্রতিনিধি সুলতান মাহমুদ ও প্যারাগন গ্রুপের প্রতিনিধি তানবির রাহাত বলেন, উৎপাদন ব্যবস্থা বহুমুখী হওয়ায় কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর পক্ষে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
সূত্র: সমকাল (সমকাল প্রতিবেদক)





মন্তব্য
(০)