অতিরিক্ত গরমে স্ট্রবেরির ফুল ও ফল ধরা ব্যাহত হয়, ফলের মানও নষ্ট হয়। এই সমস্যার সমাধানে জিন সম্পাদনা প্রযুক্তি নিয়ে একসঙ্গে কাজ শুরু করেছে দুই প্রতিষ্ঠান, প্ল্যান্টিক বায়োসায়েন্সেস (Plantik Biosciences) ও হাডসন রিভার বায়োটেকনোলজি (Hudson River Biotechnology)। তাদের লক্ষ্য এমন একটি যাচাই করা তাপসহিষ্ণু বৈশিষ্ট্য, যা যেকোনো স্ট্রবেরি প্রজননকারী লাইসেন্স নিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন। যাচাই-পরীক্ষা ইতিমধ্যে চলছে।
প্ল্যান্টিকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ইং শাও (Ying Shao) বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে চরম তাপের ঘটনা বাড়ায় তাপসহিষ্ণুতা এখন বহু ফসলের জন্য অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য। স্ট্রবেরি এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ফসলগুলোর একটি।
কাজটি হবে দুই ধাপে। ফ্রান্সভিত্তিক প্ল্যান্টিক তাদের অ্যাটলান্টিস (ATLANTIS) নামের মেশিন লার্নিং প্ল্যাটফর্মে উদ্ভিদের ডিএনএর সেই নিয়ন্ত্রক অংশ খোঁজে, যা জিন চালু বা বন্ধ করে; তারপর বাইরের কোনো ডিএনএ না ঢুকিয়ে সেই অংশ সম্পাদনা করে। প্রতিষ্ঠানটির প্রথম পণ্য একটি তাপসহিষ্ণু টমেটো। তাদের দাবি, প্রচলিত প্রজননে যেখানে পাঁচ থেকে আট বছর লাগে, সেখানে এটি তৈরি হয়েছে প্রায় ১২ মাসে। যুক্তরাষ্ট্র ও বেলজিয়ামের গ্রিনহাউস ও মাঠে এর প্রদর্শনী চলছে।
হাডসন রিভারের বায়োমাস (BioMaas) প্ল্যাটফর্ম প্রজননকারীদের নিজস্ব গবেষণাগার না গড়েই জিন সম্পাদনার সুযোগ দেয়; প্রতিষ্ঠানটি এতদিন টমেটো ও স্ট্রবেরি নিয়ে কাজ করেছে। এই জোটে প্ল্যান্টিক ঠিক করবে স্ট্রবেরির জিনোমের কোন অংশ সম্পাদনা করতে হবে, আর হাডসন রিভার গাছে সেই সম্পাদনা করবে। প্রধান নির্বাহী ফের্নান্দো লস (Fernando Los) বলেন, টমেটোর চেয়ে স্ট্রবেরি অনেক জটিল, কারণ এটি অক্টোপ্লয়েড প্রজাতি এবং সাধারণত বীজ নয়, ক্লোন হিসেবে বংশবিস্তার হয়; তাই কাজ করতে হয় সরাসরি বাণিজ্যিক জাতের ওপর।
লস জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নে ক্রিসপার (CRISPR) সম্পাদনার নিয়ম সহজ হওয়ায় এ ব্যবসায় আগ্রহ অনেক বেড়েছে। বড় বীজ কোম্পানির বাইরে ছোট প্রজননকারীদের পূর্ণ জিন সম্পাদনার কাজ নিজে চালানোর মতো অর্থ বা জনবল নেই। তাঁর ভাষায়, প্রজননকারীর ব্যর্থতার হার ৯০ শতাংশ থেকে কমিয়ে হয়তো ১০ শতাংশে নামানো গেলে সেটি তাঁদের জন্য খুব ভালো প্রস্তাব।
স্ট্রবেরি দিয়ে শুরু হলেও পরে অন্য ফসলেও এই পদ্ধতি নেওয়ার পরিকল্পনা আছে দুই প্রতিষ্ঠানের। নিজেদের স্ট্রবেরি জাতের সমস্যা নিয়ে অন্য কোম্পানিগুলোকেও তারা আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। এজিফান্ডনিউজ জানিয়েছে, তাদের মূল প্রতিষ্ঠান এজিফান্ড প্ল্যান্টিকের একজন বিনিয়োগকারী। প্রতিবেদনটি লিখেছেন জেনিফার মারস্টন।
ছবি: USDAgov / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ





মন্তব্য
(০)