দাম বাড়ানোর পরও রাজধানীর খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি, বিশেষ করে এক লিটারের বোতল মিলছে কম। খুচরা বিক্রেতাদের ভাষ্য, পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো বোতলজাত তেল বাজারে কম ছাড়ছে; পরিবেশকদের বারবার তাগাদা দিয়েও যা আসছে তার বেশির ভাগ দুই ও পাঁচ লিটারের বোতল। শুক্রবার শান্তিনগর, নিউ মার্কেট ও তুরাগের নতুন বাজার ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে।
শান্তিনগরের ক্রেতা ফরহাদ হোসেন জানান, মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ব্যবসায়ীরা বোতলজাত সয়াবিনের দাম লিটারে পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা করেছেন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সে দর অনুমোদনও করেছে, কিন্তু বাজারে সরবরাহ নেই। বোতলের সংকটে খোলা তেলের দামও বাড়ছে—খুচরায় খোলা সয়াবিন ১৯৮ থেকে ২০০ টাকা এবং পাম তেল ১৮০ থেকে ১৮৫ টাকা লিটার।
আটা-ময়দার দামও বেড়েছে। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে এক মাসে খোলা আটা কেজিতে ৩ টাকা ও ময়দা ৫ টাকা বেড়েছে; বিক্রেতারা বলছেন বৃদ্ধি আরও বেশি—খোলা আটা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা এবং খোলা ময়দা ৫৫–৬০ থেকে ৬৫–৭০ টাকা কেজি। দুই কেজির প্যাকেট ময়দা ১৬০–১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, অর্থাৎ কেজিপ্রতি ৮০–৮৫ টাকা। কাঁচামালের দাম বাড়ার যুক্তিতে বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিলেও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠকের পর তা আপাতত স্থগিত রেখেছেন ব্যবসায়ীরা; উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের খরচ যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সপ্তাহের ব্যবধানে ফার্মের মুরগির লাল ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ১৬০ টাকায় উঠেছে। ব্রয়লার মুরগি আগের মতোই ১৮০–১৯০ টাকা ও সোনালি ৩৩০–৩৪০ টাকা কেজি। চাষের মাছের মধ্যে রুই ৩৮০–৪২০, কাতলা ৪০০–৪৪০, ট্যাংরা ৫০০–৭৫০, পাঙাশ ২৫০–৩০০, তেলাপিয়া ২৫০–২৮০, পাবদা ৪০০–৪৫০ ও কই ২৫০–৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
সবজি আগের চড়া দামেই স্থির থাকলেও কাঁচা মরিচ বেড়েছে বেশ—বাজারভেদে কেজি ১৪০ থেকে ১৮০ টাকা, যা আগে ছিল ৮০ থেকে ১২০ টাকা। ভোজ্যতেল থেকে ডিম-মরিচ পর্যন্ত এই একযোগে দাম বাড়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ওপর চাপ বাড়ছে।
ইত্তেফাক রিপোর্ট অবলম্বনে। সূত্র: ইত্তেফাক





মন্তব্য
(০)