ভরা আমন মৌসুমে সরকার নির্ধারিত দামে ইউরিয়া সার না পাওয়া এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির অভিযোগে কুড়িগ্রামের উলিপুরে এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ করেছেন কৃষকেরা। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের গাবতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। প্রায় আধা ঘণ্টা পর পুলিশ গিয়ে ওই কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে।
বিক্ষুব্ধ কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারের কাছে সরকারি দামে ইউরিয়া মিলছে না, অথচ খুচরা দোকানে একই সার কেজিপ্রতি ৫০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক ও ছোট চাষিরা, যাঁদের আমন খেতে এখনই সার দেওয়ার সময়।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক কৃষক জানান, দিনের পর দিন ডিলারের কাছে ঘুরেও তিনি সার পাননি; কিন্তু বাড়তি টাকা দিলে খুচরা দোকানে ঠিকই সার পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, ডিলার ও খুচরা বিক্রেতার যোগসাজশে এই সংকট তৈরি হয়েছে এবং এর সঙ্গে কৃষি কর্মকর্তারাও জড়িত থাকতে পারেন।
স্থানীয় সূত্র বলছে, সন্ধ্যায় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা স্বপন কুমার গাবতলী বাজারের একটি খুচরা সারের দোকানে দোকানির সঙ্গে কথা বলছিলেন। সেখানে থাকা কৃষকেরা তাঁকে দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন, সড়কে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন। তিনি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী সরকার ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।
স্বপন কুমারের ভাষ্য, রাত আটটার দিকে বাজারে গেলে কৃষকেরা তাঁকে ঘিরে ফেলেন এবং কেউ কেউ গালাগাল করেন। কোথায় কী পরিমাণ সার দরকার, সেই তথ্য সংগ্রহ করতেই তাঁদের বিভিন্ন বাজারে যেতে হয়; শুক্রবারও তিনি সে কাজেই গিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।
উলিপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম আরিফ বলেন, ওই বাজারে সেদিন সার বিক্রির কোনো ঘোষণা ছিল না। কৃষি কর্মকর্তাকে কৃষকেরা ঘিরে ফেলেছেন—এমন খবর পেয়ে পুলিশ পাঠিয়ে তাঁকে নিয়ে আসা হয়।
একই দিন সকালে জেলার নাগেশ্বরী উপজেলাতেও সারসংকট ও অনিয়মের অভিযোগে এক কৃষি কর্মকর্তাকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন কৃষকেরা। কুড়িগ্রামে আমন মৌসুমের মাঝপথে ইউরিয়া নিয়ে এ নিয়ে পরপর কয়েকটি ঘটনা ঘটল, যা জেলার সার বিতরণব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।
প্রথম আলোর কুড়িগ্রাম প্রতিনিধির প্রতিবেদন অবলম্বনে। সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)