কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বার্নাবিতে সাইমন ফ্রেজার বিশ্ববিদ্যালয় (Simon Fraser University)-এর গ্লোবাল ইনস্টিটিউট ফর অ্যাগ্রিটেকের প্রকৌশলীরা এমন একটি লেজার আগাছানাশী রোবট বানিয়ে মাঠে পরীক্ষা করেছেন, যার দাম বাণিজ্যিক যন্ত্রের ভগ্নাংশ এবং যার লক্ষ্য বড় যান্ত্রিক খামার নয়, ছোট ও সীমিত সামর্থ্যের খামার। উ সু কিম (Woo Soo Kim)-এর নেতৃত্বে আট সহলেখকের এই পিয়ার-রিভিউড গবেষণা 'স্মার্ট অ্যাগ্রিকালচারাল টেকনোলজি' সাময়িকীতে ২০২৬ সালের ১৯ জুন অনলাইনে এবং আগস্টের মুদ্রিত সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।
লাইটউইড (LiteWeed) নামের রোবটটি কম শক্তির লেজারের সঙ্গে এমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জুড়েছে, যা ক্লাউডে নয়, যন্ত্রের ভেতরেই চলে—এজ কম্পিউটিং। বাণিজ্যিক লেজার আগাছানাশীর শিল্পমানের কার্বন ডাই-অক্সাইড লেজারের চেয়ে অনেক ছোট ও সস্তা ৪ ওয়াটের নীল ডায়োড লেজার এতে আছে, সঙ্গে সস্তা একক-বোর্ড কম্পিউটার রাস্পবেরি পাই ৫-এ চলা ছোট কম্পিউটার-ভিশন মডেল ইয়োলোএক্স-ন্যানো (YOLOX-nano)। আগাছা শনাক্ত হলে রোবট থামে, দুই-জোড়ের ছোট রোবটিক বাহু লক্ষ্যবস্তুর ওপর বসায় এবং প্রজাতি ও আকার অনুযায়ী মাপা লেজার-মাত্রা ছোড়ে—গবেষকেরা একে 'থামো-ও-নিশানা' কৌশল বলছেন।
দলটি তিনটি জেদি আগাছা—পিগউইড, পার্সলেন (নুনিয়া শাক) ও নাটসেজ (মুথা)—তিন বৃদ্ধিপর্যায়ে, ভ্যাঙ্কুভার ও তানজানিয়ার আরুশার খালি মাটির প্লটে পরীক্ষা করেছে; পূর্ব আফ্রিকার দ্বিতীয় স্থানটি বেছে নেওয়া হয়েছিল সম্পদসমৃদ্ধ গবেষণা-পরিবেশের বাইরেও ব্যবস্থাটি কাজ করে কি না দেখাতে। ফল দুই জায়গায় একই রকম: ভ্যাঙ্কুভারে লক্ষ্য করা আগাছার ৯৭ শতাংশ ও আরুশায় ৯৬ শতাংশ নির্মূল হয়েছে; বেশির ভাগ ৩০ সেকেন্ডের কম লেজারে, সবচেয়ে বড় পিগউইডে সর্বোচ্চ ৬০ সেকেন্ডে। শনাক্তকরণের নির্ভুলতা (মিন অ্যাভারেজ প্রিসিশন) ০.৩২—লেখকেরা একে অত্যাধুনিক মান নয়, কম খরচের ব্যবস্থার জন্য শক্ত ভিত্তি বলছেন; প্রতি শনাক্তকরণে প্রক্রিয়াকরণে লাগছে প্রায় ১১৮ মিলিসেকেন্ড।
গবেষণার অন্য প্রধান সংখ্যা খরচ। বাজারে পাওয়া যন্ত্রাংশে পুরো একটি লাইটউইড ইউনিটের দাম ধরা হয়েছে প্রায় ৫০০ কানাডীয় ডলার, বা প্রায় ৩৭০ মার্কিন ডলার: কম্পিউটিং ও ক্যামেরায় প্রায় ১০০ ডলার, চাকাযুক্ত চলন-প্ল্যাটফর্মে ২০০, নিশানা বাহুতে ৫০, লেজার মডিউলে ৫০ এবং শক্তি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ১০০। বাণিজ্যিক স্বয়ংক্রিয় লেজার আগাছানাশী সাধারণত ট্রাক্টরে লাগানো বড় যন্ত্র, দাম হাজার হাজার ডলার।
সীমাবদ্ধতা নিয়ে লেখকেরা খোলামেলা। লাইটউইড সেকেন্ডে প্রায় ৫ সেন্টিমিটার চলে, আর থামো-ও-নিশানা পদ্ধতিতে আগাছার ঘনত্বভেদে দিনে বাস্তবে ০.০১ থেকে ০.০৩ হেক্টর ঢাকতে পারে—বড় মাঠ পরিষ্কারের কাজে অনুপযুক্ত। বদলে গবেষকেরা একে ছোট জমি, সবজিবাগান বা বড় মাঠের কিনারে আগাম পর্যায়ের কম-ঘনত্বের বিক্ষিপ্ত দমনের হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন—যেখানে আগাছানাশক ব্যবহারের অর্থনৈতিক বা পরিবেশগত যুক্তি দেওয়া সবচেয়ে কঠিন এবং হাতে নিড়ানির শ্রমিক দুর্লভ বা দামি।
উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে গত কয়েক বছরে লেজার আগাছানাশনে বড় বাণিজ্যিক বিনিয়োগ এসেছে, তবে প্রায় সবটাই সমৃদ্ধ কৃষি অঞ্চলের সারি ফসলের জন্য বড়, মূলধন-নিবিড় যন্ত্রে। লেখকদের যুক্তি, আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার ক্ষুদ্র ও মাঝারি খামারে—যেখানে হাতে নিড়ানিই এখনো নিয়ম এবং আগাছানাশকের খরচ ও প্রতিরোধ ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ—লেজার প্রযুক্তি পৌঁছাতে হলে সত্যিকারের কম খরচের, উন্মুক্ত পদ্ধতি দরকার। রাসায়নিক নয়, স্থানীয় তাপক্ষতিতে আগাছা মারায় বারবার আগাছানাশক ব্যবহারে মাটির অণুজীবজগতের যে ক্ষতি হয়, তা-ও এড়ানো যায়।
ছবি: Didier Descouens / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Global Agriculture





মন্তব্য
(০)