প্রজননবিদের অধিকার আর পেটেন্ট পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, ইউরোপের বীজ খাতের দুটোই দরকার। সিড ওয়ার্ল্ড ইউরোপের সম্পাদকীয় পরিচালক মার্সেল ব্রুইন্স (Marcel Bruins) সাময়িকীটির সিড সেক্টর ২০৪৫ সিরিজের এক কলামে এই যুক্তি দিয়েছেন। মতামত লেখকের নিজস্ব।
ব্রুইন্সের মতে, মেধাস্বত্ব নিয়ে বিতর্ক জট পাকায় কারণ আলাদা আলাদা আইনি হাতিয়ারকে এক করে দেখা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জাত সুরক্ষা ব্যবস্থা নতুন, স্বতন্ত্র, সমরূপ ও স্থিতিশীল জাতকে রক্ষা করে, আর এতে প্রজননবিদের ছাড় আছে: সুরক্ষিত জাত দিয়েও যে কেউ নতুন জাত উদ্ভাবন করতে পারেন। পেটেন্ট রক্ষা করে কারিগরি উদ্ভাবন, যেমন নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য বা পদ্ধতি; ইউরোপে জাত নিজে বা মূলত জৈবিক প্রক্রিয়া পেটেন্টযোগ্য নয়। ইউরোপীয় পেটেন্ট আদালতের চুক্তিতেও সীমিত প্রজনন ছাড় আছে, তবে নতুন জাতে পেটেন্ট করা বৈশিষ্ট্য থেকে গেলে বিক্রির জন্য লাইসেন্স লাগে।
পেটেন্ট বীজ খাত দখল করছে, এই ধারণার বিপক্ষে তিনি পরিসংখ্যান দেন। অ্যালটিয়াস সমন্বিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নতুন জিনোমিক কৌশলে (এনজিটি) তৈরি উদ্ভিদসংক্রান্ত বিশ্লেষিত ইউরোপীয় আবেদনের মাত্র প্রায় ৩০ শতাংশ পেটেন্ট পেয়েছে, যেখানে সব খাত মিলিয়ে ইউরোপীয় পেটেন্ট অফিসের হিসাবে হার প্রায় ৬০ শতাংশ। বিশ্লেষিত ফসলগুলোতে ২০২৪ সালে নিবন্ধিত জাতের আনুমানিক ২.৯ থেকে ৪ শতাংশে পেটেন্ট করা বৈশিষ্ট্য ছিল; উৎপাদন মূল্যের হিসাবে তা ১.৬ থেকে ২.১ শতাংশ।
জাত সুরক্ষাও সর্বব্যাপী নয় বলে লেখেন তিনি। ইইউআইপিও ও সিপিভিওর যৌথ সমীক্ষায় সুরক্ষিত জাতের অংশ মাঠ ফসলে ২৫ শতাংশ, ফলে ১২ শতাংশ, সবজিতে ১৯ শতাংশ আর শোভাবর্ধক উদ্ভিদে ৯৭ শতাংশ। একই সমীক্ষার হিসাবে, ১৯৯৫ থেকে ২০১৯ সালের প্রজনন অগ্রগতি না থাকলে ২০২০ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে মাঠ ফসলের উৎপাদন ৬.৪ শতাংশ কম হতো; এই অগ্রগতির সঙ্গে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি ইউরোর জিডিপি, প্রায় ৯০ হাজার সরাসরি কর্মসংস্থান এবং বছরে আনুমানিক ৬ কোটি ২০ লাখ টন গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ এড়ানোর হিসাব যুক্ত। কার্যকর সুরক্ষার প্রায় ৬০ শতাংশ ছোট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির হাতে।
ব্রুইন্সের কাছে আসল পরীক্ষা হলো ব্যবহারের সুযোগ। জাতের সঙ্গে পেটেন্টের তথ্য মেলানো পিন্টো ডেটাবেস এবং সবজি ও মাঠ ফসলের লাইসেন্সিং প্ল্যাটফর্মের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, লাইসেন্সের খরচ ও কাজের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগের জবাব ঢালাও নিষেধাজ্ঞা নয়, স্বচ্ছতা ও লাইসেন্সিং। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এনজিটি বিধিমালা গৃহীত হওয়ায় বীজ খাতের উচিত আচরণবিধি তৈরিতে অংশ নেওয়া, আর চলমান জাত সুরক্ষা মূল্যায়ন যেন প্রয়োগ, খামারে রাখা বীজ ও ডিজিটালাইজেশনের মতো বিষয়েই সীমিত থাকে, পেটেন্ট নীতি আবার খুলে না বসে।
শেষে তিনি লেখেন, অনুমানযোগ্য মেধাস্বত্ব নিয়ম না থাকলে আরও উদ্ভাবন বাণিজ্যিক গোপনীয়তার আড়ালে থেকে যাবে; জলবায়ু-সহনশীল ও কম উপকরণে চাষের জাত উদ্ভাবনে ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থাই ভিত্তি।
ছবি: Michael Trolove / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: Seed World Europe





মন্তব্য
(০)