সরকার আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মিলে যে বড় বিনিয়োগ করে, কৃষি গবেষণা তার ভেতরে ঢুকতে পারলে বেশি কৃষকের কাছে পৌঁছাবে; আর সে জন্য সিজিআইএআর (CGIAR)-কে শুরু করতে হবে সেই বিনিয়োগ কোন সমস্যার সমাধান চায়, তা থেকে। সিজিআইএআর স্কেলিং উইক ২০২৬-এর "উদ্ভাবন থেকে বিনিয়োগ" শীর্ষক অধিবেশনের মূল কথা এটাই।
স্কেলিং ফর ইমপ্যাক্ট প্রোগ্রামের আওতায় আইআইটিএ (IITA), আন্তর্জাতিক পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট (IWMI), সিমিট (CIMMYT) ও ইকার্ডা (ICARDA) মিলে অধিবেশনটি আয়োজন করে। বিশ্বব্যাংক, আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংক ও এইম ফর স্কেল (AIM for Scale)-এর বক্তারা আলোচনা করেন, কোন উদ্ভাবন বড় উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য প্রাসঙ্গিক, বিনিয়োগযোগ্য ও বাস্তবায়নযোগ্য।
মূল উদাহরণ ছিল আইআইটিএর নেতৃত্বে চলা টিএএটি ক্লিয়ারিংহাউস (TAAT Clearinghouse)। এতে প্রমাণভিত্তিক ২০০টির বেশি প্রযুক্তি আছে, যা প্রকল্প নকশার মিশন ও একটি অনলাইন তালিকার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগের সঙ্গে জোড়া হয়। অধিবেশনে বলা হয়, প্রমাণ, কারিগরি সহায়তা ও বাস্তবায়নের সহায়তা সঙ্গে না থাকলে কোনো প্রযুক্তি বড় পরিসরে ছড়ায় না।
২০২২ সালের ডিসেম্বরে অনুমোদিত দুটি প্রকল্পে এর নমুনা দেখা যায়। জাম্বেজি নদী অববাহিকায় আফ্রিকান উন্নয়ন ব্যাংকের সমন্বিত উন্নয়ন ও জলবায়ু অভিযোজন কর্মসূচিতে জলবায়ু-সহিষ্ণু প্রযুক্তির একটি তালিকা রাখা হয়েছে। মোজাম্বিক ও জাম্বিয়ায় কারিগরি সহায়তায় ব্যবহার হয়েছে এজিওয়াইজ (AGWISE) নামের ডিজিটাল টুল, যা সার, বপনের সময় ও চাষপদ্ধতি নিয়ে পরামর্শ দেয়। গিনি-বিসাউয়ে জরুরি খাদ্য সংকট প্রকল্পে টিএএটির সহায়তার জন্য ২ লাখ ৫৫ হাজার ৮০১ মার্কিন ডলার রাখা হয়, যাতে ছিল জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসলের জাত, কাসাভার চারা বাড়ানোর কৌশল ও উন্নত সবজি প্রযুক্তি।
আলোচকেরা মনে করিয়ে দেন, মাঠ পরীক্ষায় ভালো ফল দেওয়া প্রযুক্তিও দুর্বল সরবরাহব্যবস্থা, অর্থের অভাব বা নীতির বাধায় কৃষকের কাছে পৌঁছায় না। জলবায়ু-সহিষ্ণু বীজের জন্য দরকার নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী, নিয়মকানুন ও বিতরণব্যবস্থা; ডিজিটাল পরামর্শসেবার দরকার দায়িত্ব নেওয়ার মতো প্রতিষ্ঠান ও টেকসই অর্থায়ন; যন্ত্রপাতির দরকার মেরামতসেবা আর সাশ্রয়ী করার প্রণোদনা। নারী ও তরুণসহ কারা উদ্ভাবনটি ব্যবহার করতে পারবেন, তা-ও শুরুতেই নকশায় রাখতে হবে।
অধিবেশন সিজিআইএআরের জন্য কয়েকটি অগ্রাধিকার ঠিক করে: দেশের কৌশল ও প্রকল্প নকশা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই সরকার ও ঋণদাতাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়া, বিনিয়োগের প্রয়োজনের সঙ্গে উদ্ভাবন মেলানো, খরচের কার্যকারিতা ও বাস্তবায়নের ঝুঁকির মতো অর্থায়নের ভাষায় প্রমাণ তুলে ধরা, এবং বাস্তবায়ন ও শিক্ষার পুরো সময় পাশে থাকা। সাফল্যের মাপকাঠি হওয়া উচিত বড় বিনিয়োগ থেকে ভালো উন্নয়ন ফল, যা দেশের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ধরে রাখতে পারে।
ছবি: U.S. Department of the Treasury / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: CGIAR




মন্তব্য
(০)