বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহারে কয়েকটি অটো রাইস মিলের তরল বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) ছাড়াই খাল, জলাশয় ও ফসলি জমিতে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পানির উৎস দূষিত হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আবাদি জমি ও জলজ পরিবেশ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ১৪টি অটো রাইস মিলের সিদ্ধ ও ধোয়া সেকশনের দুর্গন্ধযুক্ত পানি সরাসরি বাইরে যাচ্ছে। একটি মিলের বর্জ্য পানি রেলের জায়গা দিয়ে ফসলি জমির পাশ ঘেঁষে ইরামতি খালে পড়ছে, আরেকটির বর্জ্য ড্রেন দিয়ে জমি পেরিয়ে খাড়িতে যাচ্ছে। ইটিপি বসানোর বাধ্যবাধকতা থাকলেও এসব মিলে তা দেখা যায় না বলে তাঁদের দাবি।
সান্তাহার মৎস্য গবেষণাগারে মিলের বর্জ্য পানি ও খালের পানির নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের (ডিও) স্বাভাবিক মাত্রা প্রতি লিটারে ৩ থেকে ৬ মিলিগ্রাম থাকার কথা, কিন্তু মিলের পানিতে পাওয়া গেছে ১ দশমিক ৪ মিলিগ্রাম আর খালের পানিতে ১ দশমিক ২ মিলিগ্রাম।
গবেষণাগারের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শিশির কুমার দে বলেন, নমুনা পরীক্ষায় মিল ও ইরামতি খালের পানি প্রকৃতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর দেখা গেছে, নমুনায় ছাই ও ধাতব উপাদানও মিলেছে। হেভি মেটাল পরীক্ষা করা হলে ক্ষতিকর ধাতুর উপস্থিতি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় কৃষক লতিফুর রহমান বলেন, খাড়ির দুর্গন্ধে এখন আশপাশে যাওয়া যায় না, জমিতে ফলন কমেছে, পচা পানিতে মাছও বাঁচে না। একসময় খালের মাছেই পরিবারের আমিষের চাহিদা মিটত, এখন মাছ কিনে খাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
প্রতিবেদনটি কৃষি সময়ের বগুড়া সংবাদদাতার পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে লেখা।
ছবি: Scott E. Justice / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: কৃষি সময়





মন্তব্য
(০)