লবণাক্ত জমিতে চাষাবাদে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সবচেয়ে বড় সমস্যা অর্থায়ন বা প্রযুক্তি নয়, বাজারে চাহিদার অভাব। আমস্টারডামের আইভিএম ইনস্টিটিউট ফর এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজ (IVM Institute for Environmental Studies)-এর এক গবেষণার এই ফলাফল এজিফান্ডনিউজে প্রকাশিত এক অতিথি নিবন্ধে তুলে ধরা হয়েছে।
উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার আটটি দেশের ১৫টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলেছেন গবেষকেরা। এদের কেউ উপকূলীয় বদ্বীপ থেকে শুষ্ক অঞ্চলে স্যালিকর্নিয়া (salicornia) ও সল্টবুশের মতো লবণপ্রিয় হ্যালোফাইট উদ্ভিদ চাষ করে, কেউ ধান ও আলুর লবণসহিষ্ণুতা বাড়ানোর কাজ করা জৈবপ্রযুক্তি ও কৃষিরাসায়নিক কোম্পানি, কেউ সেচ পরামর্শক বা লবণমুক্তকরণ প্রযুক্তির সরবরাহকারী।
সমস্যাটি ছোট নয়। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও-র হিসাবে বিশ্বের প্রায় ১৪০ কোটি হেক্টর জমি, অর্থাৎ অন্তত ১০ শতাংশ ভূমি, ইতিমধ্যে বাড়তি লবণাক্ততায় আক্রান্ত। খরা, লোনাপানির অনুপ্রবেশ ও নিবিড় সেচের কারণে প্রধান কৃষি অঞ্চলগুলোতে এটি আরও ছড়াবে বলে পূর্বাভাস রয়েছে।
তবু লবণাক্ততা খুব কমই আলোচনায় আসে। তাপপ্রবাহ বা রোগের মতো চোখে দেখা যায় না; লবণ ধীরে ধীরে জমে, শনাক্ত করতে যন্ত্র লাগে। একাধিক ফসল-চাপ নিয়ে কাজ করা এক জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লবণাক্ততাকে নিজেদের সবচেয়ে কম অগ্রাধিকার বলেছে। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন দুর্বল সচেতনতা, গ্রাহক পেতে উচ্চ ব্যয় এবং বড় সরবরাহ চুক্তির আগেই বড় বিনিয়োগ করা হবে কি না, সেই দোটানার কথা। অর্থের ঘাটতিকে তাঁরা প্রধান বাধা বলেননি।
এক ছোট স্যালিকর্নিয়া চাষি গবেষকদের বলেছেন, "সবকিছু শেষ পর্যন্ত চাহিদায় গিয়ে ঠেকে।" অনেকে বড় প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমেই বড় হতে চান, কিন্তু সেই দরজা খোলেনি বলে হতাশাও আছে। এক অভিজ্ঞ হ্যালোফাইট চাষির প্রশ্ন, "এসব কোম্পানির বোর্ডরুমে আমরা ঢুকব কীভাবে?"
১৫ জনের কেউই বলেননি যে তাঁরা মূলত মুনাফার জন্য ব্যবসা করছেন, তবে টেকসইতার সংজ্ঞা একেকজনের কাছে একেক রকম। লেখকদের সতর্কবার্তা, অভিন্ন পরিবেশগত মাপকাঠি না থাকায় বিনিয়োগকারী, অংশীদার ও নীতিনির্ধারকদের কাছে একসঙ্গে যুক্তি তুলে ধরা কঠিন হচ্ছে।
তাঁরা কৃষিতাত্ত্বিক গবেষণার পাশাপাশি বাণিজ্য সংগঠন গড়া, বাজার গবেষণা, অংশীদারত্ব ও ব্র্যান্ড কৌশলে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন; তাঁদের মতে লবণাক্ত কৃষি এখন শুধু মাটি, পানি ও ফসল ব্যবস্থাপনার কৌশল নয়, একটি ব্যবসায়িক বাস্তুতন্ত্রও। নিবন্ধটি লিখেছেন রিচ বেলিস, যিনি ড. কেট নেগাচের সঙ্গে আইভিএম-এর প্রতিবেদনটির সহলেখক; মতামত লেখকের নিজের।
ছবি: Liese Coulter, CSIRO / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ





মন্তব্য
(০)