খাদ্য নিরাপত্তার মানদণ্ড ক্রমশ কঠোর হওয়ায় সামান্য অবশিষ্টাংশ ধরা পড়লেও বড় খরচ হচ্ছে; তাই অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা ও মান রক্ষায় একটি অভিন্ন নিয়ম দরকার বলে মত দিয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার রুইবস চা উৎপাদক ও প্রক্রিয়াজাতকারীরা। ক্ল্যানউইলিয়ামের কাছে রুইবস টি প্রোডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশনের (আরটিপিএ) বার্ষিক সাধারণ সভায় এ আলোচনা হয়।
প্রতিটি অবশিষ্টাংশ পরীক্ষায় খরচ প্রায় ৫ হাজার র্যান্ড, আর উৎস খুঁজতে কয়েক দফা পরীক্ষা লাগতে পারে। সমাধান না হওয়া অবশিষ্টাংশে চালান আটকে যায়, ক্রেতারা অনিশ্চয়তায় পড়েন, দামি রপ্তানি বাজার ঝুঁকিতে পড়ে। আরটিপিএর সভাপতি ওয়ার্নার নিউয়ুডট (Werner Nieuwoudt) বলেন, এর বড় আর্থিক প্রভাব পড়ছে শিল্পে; একটি মানসম্মত নিয়ম দরকার।
নভিরোটেক ল্যাবরেটরিজের পরীক্ষাগার ব্যবস্থাপক ড. ক্যারেন কনরাডি উৎপাদকদের পরীক্ষাগারকে দোষ না দিতে বলেন: আধুনিক যন্ত্র অতি সামান্য উপাদানও ধরে, আর আইএসও-স্বীকৃত সব পরীক্ষাগার একই পদ্ধতি মানে। তাঁর মতে আসল চ্যালেঞ্জ সঠিক ও আসল নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো; তা ছাড়া অবশিষ্টাংশ ধরা পড়া মানেই বাজারের শর্ত ভঙ্গ নয়, কারণ দেশ ও ক্রেতাভেদে সহনসীমা আলাদা।
পাশের জমি থেকে রাসায়নিক উড়ে আসা (ড্রিফট) বাড়তি উদ্বেগ। নিউয়ুডট জানান, এ বছর অনেক জৈব খামারের রুইবসে অবশিষ্টাংশ মিলেছে, যা ওই খামারের নয়; ফসল তোলার আগেই ঝুঁকি কমাতে নিয়ম চান তিনি। কেপ ন্যাচারাল টি প্রোডাক্টসের মান নিশ্চয়তা ব্যবস্থাপক মিশেল ব্রাউন বলেন, দূষণ শুধু স্প্রে থেকে নয়; তদন্তে শ্রমিকদের মশা তাড়ানোর ওষুধ, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, এমনকি প্যাকেটে লেখার মার্কার কলমও উৎস হিসেবে পাওয়া গেছে।
রুইবস বেপার্কের কারিগরি ব্যবস্থাপক ইয়োহান ব্র্যান্ড জানান, তাঁদের ৯৫ শতাংশ রুইবস যায় সবচেয়ে কঠোর সর্বোচ্চ অবশিষ্টাংশ সীমার বাজারে, আর শর্তগুলো ক্রমেই বদলাচ্ছে। বক্তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়মকে মানদণ্ড হিসেবে দেখার কথা বলেন; ব্রাউনের ভাষায়, প্রতিবছর নিষিদ্ধ উপাদানের তালিকায় নতুন কিছু যোগ হয়।
আলোচনা সঞ্চালনা করেন আরটিপিএ পর্ষদ সদস্য ও রুইবসচাষি শাল্ক-উইলেম লেইং, যিনি বলেন অবশিষ্টাংশ ব্যবস্থাপনা পুরো মূল্য শৃঙ্খলের দায়িত্ব।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন ক্লেটন সোয়ার্ট (Clayton Swart)।
সূত্র: Farmers Weekly South Africa





মন্তব্য
(০)