অস্ট্রেলিয়ার মাংসের মান যাচাই ব্যবস্থা মিট স্ট্যান্ডার্ডস অস্ট্রেলিয়া (এমএসএ) একটি নতুন পরিবহন নিয়ম চালু করেছে। এতে দূরাঞ্চলের আরও বেশি ঘাসখেকো গরু মান যাচাইয়ের সুযোগ পাবে; যোগ্য গরু পাঁচ দিন পর্যন্ত যাত্রার পরও এমএসএ-সম্মত থাকবে।
দীর্ঘ সড়ক ও রেলপথে পরিবহনের এই নিয়ম মিট অ্যান্ড লাইভস্টক অস্ট্রেলিয়ার (এমএলএ) অর্থায়নে হওয়া গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি, যেখানে দেখা গেছে খামার থেকে কসাইখানা পর্যন্ত ১২০ ঘণ্টা যাত্রায়ও মাংসের স্বাদ-মান কমে না। মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী টিস অস্ট্রেলিয়া গবেষণায় অংশ নেয়: ৯২০টি গরু সড়ক ও রেলে পরিবহন করা হয় এবং ছয় হাজারের বেশি ভোক্তা চার হাজারের বেশি মাংসের নমুনা যাচাই করেন। সঠিকভাবে যত্ন নেওয়া হলে দূরত্ব বা পরিবহনের ধরন কোনোটিই মাংসের মানে প্রভাব ফেলেনি।
নতুন নিয়ম প্রযোজ্য সেই গরুর জন্য, যাদের খামার থেকে কসাইখানায় যেতে ৪৮ ঘণ্টার বেশি লাগে, তবে সর্বোচ্চ ১২০ ঘণ্টা। ট্রাক বা ট্রেনে থাকার সময় ৮৪ ঘণ্টার বেশি হবে না, ওঠানো-নামানো (ট্রেইলার বদলসহ) তিনবারের বেশি নয়, আর দুই ঘণ্টার বেশি প্রতিটি বিরতিতে—যাত্রার আগেও—ভালো খড় বা শুকনো খাবার ও পানি দিতে হবে। কসাইখানায় বিশ্রামকালে সব সময় পানি এবং চার ঘণ্টার বেশি থাকলে খাবার দিতে হবে।
টিস অস্ট্রেলিয়ার ইথান মুনি (Ethan Mooney) বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উত্তর, পশ্চিম ও মধ্য অস্ট্রেলিয়ার একদল উৎপাদক শুধু অবস্থানের কারণে এমএসএ যাচাইয়ের সুযোগ পাননি। মান যাচাই তাঁদের বাড়তি দাম পাওয়ার সুযোগ দেবে এবং বছর দুয়েক আগে নেওয়া জাত বা মোটাতাজাকরণের সিদ্ধান্ত কাজ করেছে কি না, সেই তথ্যও দেবে।
এমএসএর অন্য শর্ত বদলায়নি: গরু পাঠানোর আগে উৎপাদককে নিবন্ধিত হতে হবে, গরুর সঙ্গে এমএসএ বিক্রেতা ঘোষণাপত্র থাকতে হবে, পাঠানোর খামারে অন্তত ৩০ দিন থাকতে হবে, পরিবহনে অন্য গরুর সঙ্গে মেশানো যাবে না এবং খাসি না করা ষাঁড় যোগ্য নয়। মুনির মতে প্রস্তুতিও সমান জরুরি—জবাইয়ের আগের ৩০ দিন ক্রমবর্ধমান পুষ্টি এবং পাঠানোর আগে অন্তত ১৪ দিন একই দলে রাখা।
প্রতিবেদনটি লিখেছেন লিডিয়া বার্টন (Lydia Burton)।
ছবি: Troykeith85 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Beef Central





মন্তব্য
(০)