লক্ষ্য অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি চাইলে দক্ষিণ আফ্রিকার লাল মাংস খাতের দরকার যথেষ্ট অর্থ, রাষ্ট্রীয় প্রাণিস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এবং সিদ্ধান্তে কৃষকের বড় ভূমিকা। ২ অক্টোবর নাম্পো আলফায় 'রোড টু রিকভারি' সভায় বক্তারা এ কথা বলেন বলে জানিয়েছে ফার্মার্স উইকলি। রোগ নিয়ন্ত্রণ জোরদার ও রপ্তানি বাজার বাড়ানোর পক্ষে সবাই থাকলেও পথ নিয়ে মতৈক্য হয়নি। অভিন্ন বিষয়গুলো একটি লিখিত বিবৃতিতে এনে সংগঠনগুলোর অনুমোদন নেওয়া এবং কৃষি বিভাগ সংক্রান্ত দাবি মন্ত্রীর কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এগ্রিএসএর প্রধান নির্বাহী ইয়োহান কোৎজে (Johann Kotzé) বলেন, রাষ্ট্রের প্রাণিস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ওপর আস্থা নষ্ট হয়েছে, তাই খাতের প্রতিনিধিদের একজোট হয়ে মন্ত্রীর কাছে উদ্বেগ তুলতে হবে। সভায় খুরারোগের (এফএমডি) টিকা পেতে দেরি, রপ্তানির অনুমোদন পেতে জটিলতা এবং কর্মকর্তা ও খাতের বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সহযোগিতার বাধার কথা ওঠে। রেড মিট ইন্ডাস্ট্রি সার্ভিসেসের (আরএমআইএস) প্রধান নির্বাহী ডেওয়াল্ড অলিভিয়ে (Dewald Olivier) বলেন, বাণিজ্য অংশীদারদের সঙ্গে বিভাগের চিঠিপত্র না দেখেই বিশেষজ্ঞদের রপ্তানি বাজার খুলতে সাহায্য করতে বলা হয়; তিনি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে কার কী দায়িত্ব তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানান।
কৃষকের আস্থা ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। রেড মিট প্রডিউসার্স অর্গানাইজেশনের ফ্রি স্টেট শাখার চেয়ারম্যান পিটার মেয়ার (Pieter Meyer) অস্ট্রেলিয়ার মিট অ্যান্ড লাইভস্টক অস্ট্রেলিয়ার মতো উৎপাদকদের মতামত নেওয়ার নিচ থেকে ওপরের পদ্ধতি চান। তিনি বলেন, দেশের গবাদিপশুর আনুমানিক ২৫ থেকে ২৮ শতাংশ ফ্রি স্টেটে, তাই লেভির খরচেও সেই অনুপাত থাকা উচিত। ফ্রি স্টেট এগ্রিকালচারের সভাপতি ফ্রাঁসোয়া উইলকেন (Francois Wilken) বলেন, সংকটের সময় যেসব কৃষক টিকার টাকা দিতে রাজি ছিলেন, এখন তাঁদের রাজি করানো কঠিন হয়ে গেছে।
টিকা দেওয়াতে উৎসাহ জোগাতে ডুনেভ্যাক্স বায়োটেকের প্রতিষ্ঠাতা ড. ডেভিড গারবার (David Gerber) প্রস্তাব দেন, খুরারোগসহ নির্দিষ্ট রোগের টিকার পশুচিকিৎসা সনদ থাকা পশু বিক্রিতে বাড়তি দাম দেওয়া হোক; এ নিয়ে ফিডলট ও নিলামকারীদের সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানান তিনি। কেউ কেউ টিকা বাধ্যতামূলক করার পক্ষে বলেন, তবে গারবার ব্রুসেলোসিস ও লাম্পি স্কিন রোগের উদাহরণ দিয়ে সতর্ক করেন, শুধু আইন দিয়ে মাঠে পালন নিশ্চিত হয় না। খরচ কে দেবে, সে প্রশ্নের মীমাংসা হয়নি।
রেড মিট ইন্ডাস্ট্রি স্ট্র্যাটেজি ২০৩০-এর অর্থায়ন নিয়েও বিতর্ক হয়। অলিভিয়ে মানেন, বাস্তবায়ন প্রত্যাশার চেয়ে পিছিয়ে; তবে পশুর উৎস শনাক্তকরণের (ট্রেসেবিলিটি) একটি প্ল্যাটফর্ম চালু আছে। অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা লেভির আবেদনে আগামী চার বছরের জন্য মাত্র ৫ শতাংশ সমন্বয় ধরা হয়েছে, আগেরবার যা ছিল ৬ শতাংশ। অনেকে বলেছেন, এতে লক্ষ্য পূরণ হবে না; নতুন কোনো অঙ্কে ঐকমত্য হয়নি। স্পার্টা গ্রুপের প্রধান নির্বাহী এস্টেল ভ্যান রেনেন (Estelle van Reenen) বলেন, টিকা পাওয়ায় তাঁদের ব্যবসা আরেকটি প্রাদুর্ভাব সামলাতে পেরেছে, আর ফিডলটগুলোও বাছুর কেনা চালিয়ে যাওয়ার ভরসা পেয়েছে।
প্রতিবেদনটি ফার্মার্স উইকলির জন্য লিখেছেন গ্লেনেইস ক্রিল।
ছবি: Oleg Yunakov / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: Farmers Weekly South Africa





মন্তব্য
(০)