রাতের শেষভাগে ইবাদতের গুরুত্ব অনেক, আর রাসুল (সা.)-এর জীবনে এই সময়ের ছিল বিশেষ স্থান। প্রথম আলোর ধর্ম পাতার একটি লেখায় কোরআন ও হাদিসের সূত্র ধরে নবীজির শেষ রাতের সাতটি আমল তুলে ধরা হয়েছে।
প্রধান আমল ছিল তাহাজ্জুদ নামাজ। আল্লাহ বলেন, ‘রাতের কিছু অংশে তাহাজ্জুদ আদায় করুন। এটি আপনার জন্য অতিরিক্ত ইবাদত।’ (সুরা বনি ইসরাইল, আয়াত: ৭৯) আয়েশা (রা.) জানান, নবীজি এত দীর্ঘ নামাজ পড়তেন যে তাঁর পা ফুলে যেত; কারণ জানতে চাইলে বলতেন, ‘আমি কি কৃতজ্ঞ বান্দা হব না?’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৮৩৭) লেখায় বলা হয়েছে, রাতের নির্জনতায় দুই রাকাত দিয়েও এই সুন্নাহর অনুশীলন শুরু করা যায়।
দ্বিতীয়ত, ধীরস্থির তিলাওয়াত। হুযাইফা (রা.) এক রাতে নবীজির সঙ্গে নামাজে দেখেছেন, তিনি সুরা বাকারা, নিসা ও আলে ইমরান ধীরে পড়ছেন; তাসবিহের আয়াতে তাসবিহ, প্রার্থনার আয়াতে প্রার্থনা আর আশ্রয়ের আয়াতে আশ্রয় চাইছেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ৭৭২)
তৃতীয়ত, দোয়া। হাদিসে আছে, রাতের শেষ তৃতীয়াংশে আল্লাহ বলেন, ‘কে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দেব। কে আমার কাছে চাইবে? আমি তাকে দেব। কে ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৪৫) চতুর্থত, বিতর। নবীজি বলেছেন, ‘তোমরা বিতর নামাজকে রাতের শেষ নামাজ বানাও।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৯৮) তবে শেষ রাতে উঠতে না পারার আশঙ্কা থাকলে ঘুমানোর আগে বিতর পড়ে নেওয়ার উপদেশ তিনি আবু হোরাইরাকে দিয়েছিলেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১৭৮)
পঞ্চমত, ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা। মুত্তাকিদের পরিচয়ে কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তারা রাতের সামান্য অংশই ঘুমিয়ে কাটাত এবং রাতের শেষভাগে ক্ষমা প্রার্থনা করত।’ (সুরা যারিয়াত, আয়াত: ১৭-১৮) ষষ্ঠত, ঘুম ভেঙে আকাশের দিকে তাকিয়ে সুরা আলে ইমরানের শেষ ১০ আয়াত পাঠ, তারপর অজু করে নামাজ। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৮৩)
সপ্তমত, পরিবারকে ইবাদতে জাগানো। রমজানের শেষ দশকে নবীজি রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং পরিবারকে জাগিয়ে দিতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২০২৪) লেখায় বলা হয়েছে, হাদিসটি রমজানের শেষ দশক নিয়ে হলেও পরিবারকে ইবাদতে উৎসাহিত করার শিক্ষাটি সারা বছরের জন্য।
ছবি: Muhamad Izzul Fiqih / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: প্রথম আলো





মন্তব্য
(০)