যুক্তরাজ্যের ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (Durham University) জীববিজ্ঞান বিভাগের বিজ্ঞানীরা ফসলকে রোগ থেকে রক্ষার নতুন পথের প্রস্তাব দিয়েছেন: রোগজীবাণু গাছকে আক্রমণে যেসব প্রোটিন ব্যবহার করে, সেগুলোর অভিন্ন দুর্বলতাকে লক্ষ্য করা। দ্য প্ল্যান্ট জার্নালে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনা নিবন্ধে তাঁরা এ ধারণা তুলে ধরেছেন।
ছত্রাক ও উওমাইসিটসহ রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব ইফেক্টর নামের প্রোটিন দিয়ে গাছের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা দুর্বল করে। পর্যালোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে এমন ইফেক্টর গোষ্ঠী, যাদের জিনগত গঠন একেবারে আলাদা হলেও ত্রিমাত্রিক আকার একই। এগুলোকে বলা হয় সাস (SUSS) ইফেক্টর পরিবার, যা একই রকম দেখতে প্রোটিন সবসময় একই কাজ করে, এই পুরোনো ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে।
সাম্প্রতিক গবেষণায় এসব ইফেক্টরের উপরিভাগে কিছু অভিন্ন বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে, যা সংক্রমণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। লেখকদের প্রশ্ন, এআইভিত্তিক জৈব প্রকৌশল কি এই দুর্বল জায়গাগুলোকে লক্ষ্য করতে পারে? তাহলে একটি একটি করে প্রোটিনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী জাত না বানিয়ে সম্পর্কিত প্রোটিনের পুরো গোষ্ঠীকে একসঙ্গে লক্ষ্য করা যেত।
এতে সুরক্ষা হবে বিস্তৃত ও দীর্ঘস্থায়ী, কারণ নিজের টিকে থাকার ক্ষমতা না হারিয়ে এসব অভিন্ন বৈশিষ্ট্য বদলানো জীবাণুর পক্ষে কঠিন হতে পারে। পর্যালোচনায় এআই ও প্রোটিন নকশার এমন হাতিয়ারের কথাও আছে, যা জীবাণুর প্রোটিনের দুর্বল অংশ আটকে দেওয়ার অণু তৈরি করতে বা গাছের সংক্রমণ চেনার ও ঠেকানোর ক্ষমতা বাড়াতে পারে।
গবেষকদের মতে, এই পথে একদিন ফসলের ক্ষতি কমতে পারে, খাদ্য নিরাপত্তা বাড়তে পারে এবং রাসায়নিকের ওপর নির্ভরতা কমতে পারে; তবে ধারণাগুলো কৃষকের কাজে লাগার মতো সমাধানে রূপ নিতে পারে কি না, তা যাচাইয়ে আরও গবেষণা দরকার। নিবন্ধটির প্রধান লেখক গ্রেগরি নাইট (Gregory Knight)। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করেছে অ্যাগ্রোপেজেস।
ছবি: Björn Andersson (SLU) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: AgroPages





মন্তব্য
(০)