ডিজেলের সরবরাহ–সংকট আর চড়া পরিচালন খরচের মধ্যে ফসল তোলার মৌসুম পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নেব্রাস্কা অঙ্গরাজ্য কৃষি–জ্বালানি ও কৃষিপণ্য পরিবহনের দুটি নিয়ম সাময়িকভাবে শিথিল করেছে। রাজ্যের রাজধানী লিংকনে গভর্নর জিম পিলেন (Jim Pillen) দুটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন, যাতে রাজ্যজুড়ে কৃষক, খামারি ও কৃষিপণ্য পরিবহনকারীরা তাৎক্ষণিক ছাড় পান।
প্রথম আদেশে বলা হয়েছে, সড়কে নিবন্ধিত যানবাহন কর-অব্যাহতিপ্রাপ্ত রঙিন (ডাইড) ডিজেল মজুত, বিক্রি বা ব্যবহার করলে রাজ্যের জরিমানা বা শাস্তির মুখে পড়বে না। রঙিন ডিজেল সাধারণত সড়কের বাইরের কাজের জন্য রাখা থাকে এবং সড়কে নিবন্ধিত ট্রাকে তা ব্যবহার করা জ্বালানি করের নিয়মে অপরাধ; সংকট না কাটা পর্যন্ত সেই শাস্তি স্থগিত থাকছে।
একই আদেশে নেব্রাস্কার মৌসুমি কৃষিপণ্য ও গবাদিপশু রাজ্যের সড়কে পরিবহনের সময় দেওয়া ডিজেল কর ফেরতযোগ্য করা হয়েছে। নেব্রাস্কা রাজস্ব বিভাগে ৮৪এজি (Form 84AG) ফরম জমা দিয়ে উৎপাদক ও পরিবহনকারীরা এই টাকা ফেরত নিতে পারবেন। আদেশটি সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হয়েছে।
দ্বিতীয় আদেশটি ট্রাক নিয়ে। মৌসুমি কৃষিপণ্য ও গবাদিপশু বহনকারী যানবাহন এখন বাড়তি পারমিট না কিনে এবং সংশ্লিষ্ট ফি না দিয়েই আইনি মোট ওজন ও অ্যাক্সেল-গ্রুপ ওজনসীমার চেয়ে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বেশি বোঝা টানতে পারবে। ফসল তোলার সপ্তাহগুলোতে শস্য ও গবাদিপশুর যে বাড়তি চালান জমে, সরাসরি তার দিকেই তাকিয়ে এই ছাড়।
গভর্নর পিলেন ওয়াশিংটনেও দ্বারস্থ হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্পকে (Donald J. Trump) চিঠি লিখে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিদেশে ডিজেল রপ্তানি ৯০ দিনের জন্য সাময়িক বন্ধ রাখার কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। গভর্নরের যুক্তি, রপ্তানি বন্ধ থাকলে দেশের ভেতরে ডিজেলের মজুত আবার গড়ে উঠবে, ভোক্তার খরচ কমবে এবং কৃষকেরা বড় আর্থিক চাপ ছাড়াই ফসল তোলার মৌসুম পার করতে পারবেন।
পিলেন বলেন, "আমাদের কৃষক ও খামারিরাই এই রাজ্যের মেরুদণ্ড।" তাঁর ভাষায়, "তাঁদের পাশে দাঁড়াতে সাধ্যের সবটুকু করা জরুরি, বিশেষ করে এই মৌসুমে, যখন তাঁরা দিনরাত খেটে মাঠ থেকে ফসল তুলছেন।"
দুটি আদেশই সাময়িক এবং মৌসুমের সঙ্গে বাঁধা, নেব্রাস্কার আইনের স্থায়ী পরিবর্তন নয়। প্রতিবেদনটি আমেরিকান এজি নেটওয়ার্কের জন্য লিখেছেন সুজান লিটলফিল্ড (Susan Littlefield)।
ছবি: Katrina Wiese / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: American Ag Network





মন্তব্য
(০)