সরকার কৃষিতে বহুল ব্যবহৃত দুটি ঝুঁকিপূর্ণ আগাছানাশক প্যারাকোয়াট ও গ্লাইফোসেটের নিবন্ধন, আমদানি ও লাইসেন্স নবায়ন বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আওয়ার ইসলামের মতামত বিভাগে আলেম ও কৃষি উদ্যোক্তা মিনহাজ উদ্দীন আত্তার এই সিদ্ধান্তকে নিরাপদ খাদ্য ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলেছেন।
লেখায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে (বিএআরসি) অনুষ্ঠিত বালাইনাশক কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির (পিটাক) ৯১তম সভায় সিদ্ধান্তটি হয়। নতুন নিবন্ধন বন্ধের পাশাপাশি বিদ্যমান লাইসেন্সও আর নবায়ন হবে না, আর দেশে মজুত প্রায় ৩৯৫ টন প্যারাকোয়াট ছয় মাসের মধ্যে পর্যায়ক্রমে অপসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাতীয় জীববৈচিত্র্য কর্মপরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে বিপজ্জনক বালাইনাশকের ব্যবহার অন্তত ২৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যও রয়েছে।
লেখকের ভাষ্য, প্যারাকোয়াট বিশ্বের অন্যতম বিষাক্ত আগাছানাশক; ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ ৭০টির বেশি দেশে এটি নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত, আর সামান্য পরিমাণেও ফুসফুস, কিডনি ও লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তিনি ২০২৪ সালের এক তথ্য বিশ্লেষণের উল্লেখ করেছেন, যেখানে প্যারাকোয়াট বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত ২৫৭ জনের প্রায় ৪৩.২ শতাংশ মারা যান। গ্লাইফোসেটের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ও পরিবেশঝুঁকি নিয়ে বহু বছর ধরে আন্তর্জাতিক বিতর্ক চলছে বলেও লিখেছেন তিনি।
তাঁর মতে, অনেক কৃষক এখনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই রাসায়নিক ব্যবহার করেন এবং প্রথম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েন তাঁরাই। নিষেধাজ্ঞাই শেষ সমাধান নয়; দরকার কৃষকদের নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প আগাছা দমনের প্রশিক্ষণ, মজুত রাসায়নিক যাতে অবৈধভাবে বাজারে না ঢোকে সে জন্য কঠোর নজরদারি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠপর্যায়ের তদারকি এবং কৃষক ও ভোক্তার সচেতনতা।
লেখকের উপসংহার, কৃষির সাফল্য শুধু উৎপাদনের পরিমাণে মাপা যায় না; খাদ্য যদি স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়, সে সাফল্য অর্থহীন। কঠোর বাস্তবায়ন, গবেষণাভিত্তিক কৃষিনীতি ও নিরাপদ বিকল্প প্রযুক্তির বিস্তারই এখন প্রয়োজন।
লেখায় প্রকাশিত মত লেখকের নিজস্ব।
ছবি: Jeff Vanuga, USDA NRCS / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: আওয়ার ইসলাম





মন্তব্য
(০)