ভারতের কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার পাম্পোর তহসিলের পাতালবাগ গ্রামের জাফরানচাষিরা বলছেন, মহাসড়কের পাশের একটি ময়লার ভাগাড়ে আকৃষ্ট ইঁদুর মাটির নিচে জাফরানের কন্দ খেয়ে ফেলছে, তাই অনেকে এই চাষ ছেড়ে দিচ্ছেন। স্থানীয়দের হিসাবে পাতালবাগ আর পাশের চন্দহারা, সোমবুরা ও কান্দিজাল গ্রামের প্রায় ১২০ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত; শুধু পাতালবাগেই এক-পঞ্চমাংশ কৃষক জাফরান চাষ বন্ধ করেছেন।
মোহাম্মদ জব্বার ডাউন টু আর্থকে জানান, ০.৪ হেক্টর জমির জাফরান থেকে তিনি বছরে ৩-৪ লাখ রুপি আয় করতেন। ২০২২ সালে তাঁর জমি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে ৩ হেক্টরের ভাগাড়টি চালু হয়। স্থানীয়দের কথায়, পাম্পোর থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০টি ছোট ট্রাক ময়লা ফেলে যায়। কয়েক মাসের মধ্যেই ইঁদুর জমিতে গর্ত করে ফুল ফোটার আগেই কন্দ খেতে শুরু করে। ২০২৩ সালে জব্বার আপেল চাষে যান, তাতে প্রতি মৌসুমে আয় মাত্র ১ লাখ রুপির কিছু বেশি। এখন ইঁদুর আপেলগাছেও উঠছে, ভাগাড়ের চিলও ফল নষ্ট করছে।
আরেক কৃষক মোহাম্মদ মকবুল ২০২৪ সাল থেকে তাঁর ০.১ হেক্টর জমি ফেলে রেখেছেন; ৫০০ মিটার দূরের দ্বিতীয় জমিতেও ইঁদুর পৌঁছাচ্ছে। তাঁর ব্যাখ্যা, জাফরানের কন্দে চিনি থাকে বলে ইঁদুর দূর থেকে আসে। বাসিন্দা রাহিল রশিদ বলেন, ভাগাড়ের ৩০০ মিটারের মধ্যে আর জাফরান হয় না, আর বেশির ভাগ জাফরানখেত ঢালু উঁচু জমিতে, যেখানে অন্য ফসলও ভালো হয় না।
পুলওয়ামার জাফরানের সবচেয়ে বড় অংশ আসে পাম্পোর থেকে। ‘কাশ্মীরি জাফরান’ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০১৮ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী জম্মু-কাশ্মীরে ৩ হাজার ৭৮৫ হেক্টরে জাফরান চাষ হয়, যার ৮৫ শতাংশ পুলওয়ামায়।
কর্মকর্তাদের মত ভিন্ন। পাম্পোর পৌর কমিটির নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইসমাইল মীর বলেন, জমিটি বর্জ্য ফেলার জন্যই বরাদ্দ, বৈজ্ঞানিক উপায়ে বর্জ্য নিষ্পত্তির যন্ত্র বসানো হচ্ছে। অন্যদিকে জম্মু-কাশ্মীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটির আঞ্চলিক পরিচালক সফির হোসেন শাহ বলেছেন, ভাগাড়টি অবৈধ, পরিবেশগত ক্ষতিপূরণের জন্য তদন্ত চলছে। অধিকারকর্মী রাজা মুজাফফর ভাট বিষয়টি জাতীয় পরিবেশ ট্রাইব্যুনালে নিতে চান এবং জরিমানার অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ভাগ করার দাবি করছেন। প্রতিবেদনটি করেছেন ভগীরথ।
ছবি: Umarsami / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ডাউন টু আর্থ





মন্তব্য
(০)