ভারতের পাঞ্জাবে ধান কাটার পর খড় ব্যবস্থাপনা নিয়ে লুধিয়ানার পাঞ্জাব কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পিএইউ) নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী, সম্প্রসারণকর্মী, কৃষক, যন্ত্র প্রস্তুতকারক, যন্ত্র ভাড়ার কেন্দ্র ও শিল্পের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কর্মশালা হয়েছে। আয়োজক ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ (আইসিএআর)-এর লুধিয়ানার কৃষি প্রযুক্তি প্রয়োগ গবেষণা ইনস্টিটিউট (আটারি)। ৩০ সেপ্টেম্বর আইসিএআর খবরটি জানায়।
কর্মশালায় বলা হয়, খড় পোড়ানো কমাতে পাঞ্জাব উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে; এখন দরকার বিদ্যমান যন্ত্রের দক্ষ ব্যবহার আর জেলাওয়ারি চাহিদার সঙ্গে যন্ত্রের সক্ষমতা মেলানো। রাজ্যে প্রায় ৩১ লাখ ৭৬ হাজার হেক্টরে ধান হয়, খড় হয় প্রায় ২ কোটি টন। তাই মাটি ও ফসলভেদে যন্ত্র বাছাই, ডিজিটাল মানচিত্র, যন্ত্র ভাড়ার কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও বেলার যন্ত্রের নজরদারি বাড়ানোর কথা ওঠে।
আলোচনা হয় পাঁচটি বিষয়ে: যন্ত্র দিয়ে জমিতেই খড় ব্যবস্থাপনা; খড় সংগ্রহ করে মূল্য সংযোজন, জ্বালানি ও কার্বন বাজারে কাজে লাগানো; ফসল বৈচিত্র্যে খড় কম উৎপাদন; সচেতনতা, প্রণোদনা ও নিয়ম প্রয়োগে কৃষকের অংশগ্রহণ; আর নীতি, অংশীদারত্ব ও অর্থায়নে সমন্বয়। ধানের খড় থেকে জৈবজ্বালানি, সংকুচিত বায়োগ্যাস ও শিল্পপণ্যের সম্ভাবনা থাকলেও সংগ্রহ, পরিবহন, মজুত, লাভ-খরচ ও নিশ্চিত ক্রেতার সমস্যা রয়েছে; জমি থেকে খড় সরালে পুষ্টি ফেরত দেওয়ার দরকারও মনে করিয়ে দেওয়া হয়।
আটারি লুধিয়ানার পরিচালক পারভেন্দর শেওরান বলেন, শুধু যন্ত্রনির্ভর পথ থেকে সরে চাহিদাভিত্তিক, এলাকাভিত্তিক কৌশলে যেতে হবে, যেখানে কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র, কৃষক, ভাড়ার কেন্দ্র, প্রস্তুতকারক ও শিল্প একসঙ্গে কাজ করবে। কর্মশালার মূল ফল ‘সিআরএম কানেক্ট’ প্ল্যাটফর্মের প্রস্তাব, যেখানে যৌথ পরিকল্পনা, মাঠের অভিন্ন ক্যালেন্ডার, প্রযুক্তি বিস্তার, তথ্য ভাগাভাগি আর মাঠের সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে।
পিএইউর উপাচার্য সুখজিৎ পাল সিং মাঠে যাচাই করা ও ঠিকমতো নথিভুক্ত সমাধানের ওপর জোর দেন। আইসিএআরের কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সহকারী মহাপরিচালক রঞ্জয় সিং প্রমাণিত প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছাতে প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান। খড় পোড়ানো আরও কমাতে সিআরএম কানেক্ট চালুর অঙ্গীকারে কর্মশালা শেষ হয়।
ছবি: Neil Palmer (CIAT) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
সূত্র: আইসিএআর





মন্তব্য
(০)