যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আদি বাসিন্দারা প্রচলিত চাষাবাদ ছাড়াই অনেকখানি খাদ্য নিরাপত্তা গড়ে তুলেছিলেন। ঐতিহ্যগত পরিবেশজ্ঞান কাজে লাগিয়ে তাঁরা জমি এমনভাবে পরিচর্যা করতেন যাতে খাদ্যের প্রজাতিগুলো বাড়ে, ক্যাপিটাল প্রেসের এজি ২৫০ ধারাবাহিকে এমনটাই বলেছেন বিশেষজ্ঞরা।
ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটি এক্সটেনশনের আদিবাসীকেন্দ্রিক উদ্যানতত্ত্ববিদ জেফরি ওয়াল জানান, আদিবাসীরা স্যামন ধরতে পাথরের কাঠামো ও বাঁধ বানাতেন, ঝিনুক ও শামুকের ক্ষেত্র পরিচর্যা করতেন, মোহনায় মূলজ ফসলের বাগান করতেন এবং ওক বন ও তৃণভূমি পুড়িয়ে অ্যাকর্ন ও ক্যামাস কন্দের ফলন বাড়াতেন। কোথাও বুনো আপেল ও দেশি বেরির ঘন ঝোপ থাকলে বোঝা যায় সেখানে দীর্ঘ সময় মৌসুমি বসতি ছিল, যেখানে মানুষ আগাছা সরিয়ে গাছগুলোকে বাড়তে দিত।
স্যামন ছিল মূল প্রজাতি, বিস্তীর্ণ এলাকায় পুষ্টি জোগাত এবং সমাজজীবনকে গড়ে দিত। ওয়ালের মতে, পরিকল্পিত শস্য গৃহপালন ও শস্য মজুত ছাড়াই এত জটিল সমাজ গড়ে ওঠার উদাহরণ হিসেবে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল আমেরিকা ও বিশ্বে বিরল, আর এর কারণ স্যামন। শ্বেতসারসমৃদ্ধ কন্দ ক্যামাস খাদ্যে ভারসাম্য আনত এবং স্যামনের মতো আঞ্চলিক বাণিজ্যেও ব্যবহৃত হতো।
কোলভিল ইন্ডিয়ান রিজার্ভেশনে ডব্লিউএসইউ এক্সটেনশনের পরিচালক লিন্ডা ম্যাকলিন বলেন, উত্তর-পশ্চিমের আদিবাসীদের কৃষক নয়, শিকারি, সংগ্রাহক ও জেলে হিসেবে ধরা হয়। নেটিভ আমেরিকান খাদ্যব্যবস্থার সহকারী অধ্যাপক ল্যান্ডন শার্লো বলেন, ঔপনিবেশিক সময়ে অনেককে সংরক্ষিত এলাকায় সরিয়ে দেওয়ায় আদিবাসীরা ঐতিহ্যবাহী খাদ্য ও জ্ঞান হারিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, খাদ্য ফেরানো মানে সংস্কৃতি ফেরানো।
অনেক আদিবাসী গোষ্ঠী আবার সেসব জায়গায় খাদ্য সংগ্রহ ও পরিচর্যা শুরু করেছে। ইয়াকামা ইন্ডিয়ান রিজার্ভেশনে বড় হওয়া এবং প্রপিতামহীর কাছে প্রকৃতি থেকে জীবিকা শেখা ফ্রানসিন অ্যামব্রোস এখন কনফেডারেটেড ট্রাইবস অব দ্য গ্র্যান্ড রন্ডের কর্মসূচি ব্যবস্থাপক হিসেবে ওরেগনের কোস্ট রেঞ্জের আদিবাসী পরিবারগুলোকে ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপথ শেখাচ্ছেন। তাঁর বিশ্বাস, মাটির সঙ্গে যুক্ত একটি নতুন প্রজন্ম আসছে।
ছবি: Sten Porse / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Capital Press





মন্তব্য
(০)