প্রকৃতির বিরুদ্ধে নয়, প্রকৃতির সঙ্গে মিলিয়ে কোকো চাষ করলে ফলন বাড়ে, এমনটাই পেয়েছেন University of Oxford (অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়)-এর গবেষকেরা। কিন্তু গবেষণার এক বছরেরও বেশি পরে চকলেট শিল্পের সাড়া এখনো অসম, জানিয়েছে ফুডনেভিগেটর।
অক্সফোর্ডের গবেষণাপত্রে দেখা গেছে, পরাগায়ন উন্নত হলে কোকোর ফলন ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। মাটির পুষ্টি পাওয়ার সুযোগ, বাগানের বয়স, গাছের কম ঘনত্ব এবং মাটিতে ঝরা পাতার স্তরও ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়। গবেষণাটি এমন সময়ে আসে, যখন বিশ্বের প্রায় ৬০ শতাংশ কোকো উৎপাদনকারী আইভরি কোস্ট ও ঘানায় চরম আবহাওয়া, বুড়ো গাছ ও রোগে ফলন কমে দাম হু হু করে বাড়ছিল।
গবেষণার সহলেখক ড. Tonya Lander (টনিয়া ল্যান্ডার) বলেন, এই পরামর্শ কোকো শিল্প কয়েক দশক ধরেই জানে: পরাগায়নকারী পতঙ্গের আবাস রাখা ও কৃষি রাসায়নিক এড়ানো, বাগানে ছায়াগাছ রাখা এবং মাটি রক্ষা করা। তাঁর মতে, ক্রেতাদের জৈব, ফেয়ারট্রেড ও রেইনফরেস্ট অ্যালায়েন্স সনদপ্রাপ্ত কোকো কেনার অঙ্গীকার করতে হবে; বিশ্বের ৭৫ শতাংশ কোকো মাত্র নয়টি ব্যবসায়ী ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানের হাত দিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত অগ্রগতি মূলত কৃষক, ছোট কোম্পানি ও এনজিওর হাতেই হচ্ছে বলে জানান তিনি।
জৈব কোকোর চাহিদা এখনো কম। নেদারল্যান্ডসের উন্নয়নশীল দেশ থেকে আমদানি উৎসাহিতকরণ কেন্দ্র (সিবিআই)-এর ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে আমদানি করা কোকো বীজের মাত্র ৪ শতাংশ এবং কোকো পেস্ট ও পাউডারের ১ শতাংশেরও কম ছিল জৈব; ২০১৮ সালের পর জৈব কোকো বীজের আমদানি বাড়েনি।
কিছু কোম্পানি উদ্যোগ নিয়েছে। মার্স ডমিনিকান প্রজাতন্ত্র ও ইকুয়েডরের খামারে কম কার্বন ও জলবায়ু সহনশীল কোকো চাষে সুকডেনের সঙ্গে পাঁচ বছরের প্রকল্প চালাচ্ছে। ইকুয়েডরে ওএফআই-এর সঙ্গে আরেকটি পাঁচ বছরের প্রকল্পে ৯ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে ৯৬০ জনের বেশি কৃষককে বহুস্তর কৃষিবনায়ন ও বায়োচারের মতো পুনরুৎপাদনশীল পদ্ধতিতে সহায়তা করা হচ্ছে।
শিল্পের ৮০ শতাংশের বেশি প্রতিনিধিত্বকারী ওয়ার্ল্ড কোকো ফাউন্ডেশনের Michael Matarasso (মাইকেল মাতারাসো) বলেন, আরও অনেক কাজ বাকি। অঞ্চলভেদে সমাধান হতে পারে উন্নত চারা, বেশি ছায়াগাছ ও কৃষিবনায়ন, মাটি ও পানির ভালো ব্যবস্থাপনা কিংবা পোকা ও রোগ দমনে জোর; এর জন্য দরকার তথ্য ও বড় পরিসরের বিনিয়োগ।
কিছু প্রতিষ্ঠান বিকল্পও খুঁজছে, যেমন প্রিসিশন ফারমেন্টেশন বা উদ্ভিদকোষ চাষ থেকে কোকো উপাদান। লিন্ড্ট অ্যান্ড স্প্রুংলি জানিয়েছে, তাদের মনোযোগ এখনো প্রচলিত কোকো সংগ্রহে; পাশাপাশি সুইস স্টার্টআপ ফুড ব্রুয়ারে প্রাথমিক গবেষণা পর্যায়ের বিনিয়োগ করেছে।
ছবি: Rberchie / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: FoodNavigator





মন্তব্য
(০)