নরওয়ের পশুপালন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মনিল (Monil) তাদের ভার্চুয়াল বেড়ার কলারে বাছুর প্রসবের সতর্কবার্তা ও চারণ ব্যবস্থাপনার নতুন সুবিধা যোগ করছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা জ্যানা হভস্টাড (Janna Hovstad) এগনেভিগেটরকে জানান, গাভির নড়াচড়া বিশ্লেষণ করে প্রসব শুরু হয়েছে কি না তা জানানোর সুবিধাটি অক্টোবর থেকে খামারিরা পাবেন।
খামারিদের সমস্যা হলো, পাল কোথায় চরছে তা নজরে রাখা আর বেড়া সরিয়ে চারণভূমি বদলানো সময়সাপেক্ষ কাজ। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত মনিল গরুর গলায় পরানোর সৌরচালিত 'ক্যাটল কলার' তৈরি করে, যা গরুর অবস্থান জানায় এবং হাতে বেড়া না সরিয়ে ডিজিটালভাবে চারণের সীমানা বদলানোর সুযোগ দেয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে তারা ৮০ হাজারের বেশি যন্ত্র বিক্রি করেছে।
প্রতিষ্ঠানের অ্যাপে যোগ হচ্ছে চারণভূমির তাৎক্ষণিক ও আগের তথ্য, কোন অংশে কতটা চরানো হয়েছে তা দেখানোর তাপমানচিত্র এবং চারণভূমিকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করার সুবিধা। আগামী বছর ব্লুটুথের মাধ্যমে এক কলার থেকে আরেক কলারে যোগাযোগ এবং স্যাটেলাইট সংযোগও চালু হবে।
হভস্টাডের ভাষায়, ভার্চুয়াল বেড়া কেবল শুরু; চারণ পরিকল্পনা অ্যাপে আরও সহজ করাই তাঁদের লক্ষ্য।
এই বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। নিউজিল্যান্ডের হল্টার (Halter) ৩৭ কোটি ৭০ লাখ নিউজিল্যান্ড ডলার তুলে ২০০ কোটি মার্কিন ডলার মূল্যমানে পৌঁছেছে। মনিল বলছে, তাদের যন্ত্র ব্যবহার সহজ এবং মাত্র ছয়টি কলার দিয়ে পরীক্ষা শুরু করা যায়, ফলে ছোট-বড় সব খামারি নিতে পারেন। প্রতিষ্ঠানটি সরাসরি খামারিদের কাছে বিক্রি করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মিডওয়েস্ট অঞ্চলে দল গড়ছে।
কলারের ওয়ারেন্টি পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়েছে, যাকে হভস্টাড খামারির ঝুঁকি প্রতিষ্ঠানের কাঁধে নেওয়া বলে ব্যাখ্যা করেন। সামনে কখন, কোথায় পাল সরাতে হবে সে বিষয়ে সুপারিশসহ আরও বিস্তারিত চারণ বিশ্লেষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে মনিলের।
ছবি: CSIRO / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: এগনেভিগেটর




মন্তব্য
(০)