রাজস্থানের জালোর জেলার সায়লা তহসিলের বাওয়াতারা গ্রামের কৃষক নিহাল সিং (Nihal Singh) স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার চিফ ম্যানেজার পদ থেকে অবসর নেওয়ার পর পুরোদমে ডালিম চাষে নেমেছেন। প্রায় ছয় বছর ধরে তাঁর পরিবার ডালিম চাষ করছে। এখন প্রায় ২০ একর জমিতে তিন থেকে ছয় বছর বয়সী প্রায় ৫,০০০ গাছ আছে, যেগুলোর চারা এসেছিল নাগপুর থেকে, টিস্যু কালচার পদ্ধতিতে তৈরি। এখন চলছে তাঁর ষষ্ঠ ফসল।
কৃষি জাগরণকে তিনি বলেছেন, পরিবর্তনটা হঠাৎ হয়নি। শুরুতে উপকরণের প্রায় ৮০ শতাংশ ছিল রাসায়নিক, ২০ শতাংশ জৈব। পরে অনুপাত দাঁড়ায় ৫০:৫০, আর এখন তিনি প্রায় পুরোপুরি জৈব ব্যবস্থার দিকে যাচ্ছেন। তবে সমস্যা দেখা দিলে সীমিত রাসায়নিক স্প্রে এখনো করেন। অন্য কৃষকদের প্রতি তাঁর পরামর্শ, পুরো খামার বদলানোর আগে কয়েকটি গাছে বা ছোট জায়গায় জৈব উপকরণ পরীক্ষা করে দেখা।
প্রথম সমস্যা ছিল মাটি। তাঁর হিসাবে জমির জৈব কার্বন ছিল মাত্র ০.২৫-০.৩০ শতাংশ, ফলে মাটি পানি ধরে রাখতে পারত না, গাছও সার ঠিকমতো নিতে পারত না। তাই তিনি জৈব পদার্থ ও জৈব উপকরণের দিকে ঝোঁকেন। দ্বিতীয় সমস্যা পানি: তাঁর নলকূপ প্রায় ৯০০ ফুট গভীর, পানি মেলে প্রায় ৭০০ ফুটে। তাই গাছের প্রয়োজন বুঝে ড্রিপ সেচ দেন; তাঁর মতে বেশি পানিতে রোগের ঝুঁকিও বাড়ে।
জালোরের আবহাওয়ায় তিনি জুনে ফসলচক্র শুরু করেন, ডিসেম্বরের পর থেকে প্রায় তিন মাস ধরে ধাপে ধাপে ফল তোলেন। মার্চের পর গাছের বিশ্রামকালেও পুষ্টি আর নজরদারি চালিয়ে যান। শুঁয়োপোকা, থ্রিপস, ফলের মাছি, ব্লাইট ও ছত্রাকজনিত রোগ দেখতে নিয়মিত বাগান ঘোরেন, আর আগে জৈব দমন পদ্ধতি ব্যবহার করেন।
তাঁর নিজের হিসাবে, গত বছর বাগানে খরচ হয়েছিল প্রায় ২০ লাখ রুপি, এ বছর এ পর্যন্ত প্রায় ৮-৯ লাখ রুপি; আলাদা আলাদা পুষ্টি উপাদানের বদলে কম পণ্য ব্যবহার এর একটি কারণ। তিনি অন্তত ১০০ টন ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন এবং ডালিম ও অন্য ফসল মিলিয়ে বছরে ৬০-৭০ লাখ রুপি বিক্রির আশা করছেন। খামারে এসে ফল দেখে কেনা ব্যবসায়ীরা কখনো কেজিপ্রতি ৫০ রুপির নিচে দাম দেননি বলে জানান তিনি। কৃষি জাগরণ মনে করিয়ে দিয়েছে, এসব তাঁর খামারের নিজস্ব হিসাব; মাটি, জাত, আবহাওয়া ও ব্যবস্থাপনাভেদে ফল ভিন্ন হতে পারে, আর জৈব পদ্ধতিতে উৎপাদিত ফলের বাড়তি দাম সব বাজারে নিশ্চিত নয়।
ছবি: H. Zell / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: কৃষি জাগরণ





মন্তব্য
(০)