নওগাঁ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের তরুণ খামারি নূরে আলমের গরুর খামার এখন চলে স্মার্ট সেন্সর আর মোবাইল অ্যাপে। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) অর্থায়নে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মৌসুমী খামারটিতে ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তি বসিয়েছে, জানিয়েছে ঢাকা মেইল।
সমস্যাটা পুরোনো: অতিরিক্ত গরমে গবাদিপশু হিট স্ট্রেসে ভোগে, বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়ে; শেডে ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া গ্যাস জমলেও তা টের পাওয়া কঠিন। গ্রামে দক্ষ খামার শ্রমিকেরও সংকট আছে।
নূরে আলমের খামারে সেন্সরগুলো ২৪ ঘণ্টা শেডের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা আর অ্যামোনিয়ার উপস্থিতি মাপছে, আর সেই তথ্য সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছে যাচ্ছে খামারির মুঠোফোনের অ্যাপ বা মনিটরিং ড্যাশবোর্ডে। তাপমাত্রা বা আর্দ্রতায় অস্বাভাবিক তারতম্য হলে কিংবা অ্যামোনিয়া বাড়লে ফোনে সতর্কবার্তা আসে। অ্যাপ থেকেই দূর থেকে ফ্যান, ব্লোয়ার, লাইট, স্প্রিংকলার ও এক্সহস্ট ফ্যান চালু বা বন্ধ করা যায়।
নূরে আলম বলেন, ‘আগে আবহাওয়া খারাপ হলে বা অতিরিক্ত গরমে গরু অসুস্থ হয়ে পড়ত। খামারে গ্যাস জমেছে কি না, তা বুঝতে পারা কঠিন ছিল। এখন সেন্সরের মাধ্যমে ফোনের অ্যাপেই সব তথ্য পেয়ে যাই।’ তাঁর দাবি, এতে শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমেছে, রোগবালাই কমে উৎপাদন বেড়েছে। স্থানীয় খামারি একরামুল হক বলেন, প্রান্তিক খামারিদের খামারে এমন প্রযুক্তি বাড়ানো গেলে লোকসানের ঝুঁকি কমবে।
মৌসুমীর প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নূর হোসেন বলেন, প্রথাগত খামারে হিট স্ট্রেস আর অতিরিক্ত আর্দ্রতায় পশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হতো, আইওটি দিয়ে সেই ঝুঁকি কমিয়ে খামারকে লাভজনক করা সম্ভব। নওগাঁ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, এই খামারে আইওটির সফল প্রয়োগ ডেইরি খাতকে এক ধাপ এগিয়ে নেবে, আর প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এমন প্রযুক্তিভিত্তিক খামারকে কারিগরি সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
প্রতিবেদনটি পাঠিয়েছেন ঢাকা মেইলের নওগাঁ প্রতিনিধি সুমন আলী।
ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ঢাকা মেইল





মন্তব্য
(০)