বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল ও সারের দাম বাড়তে থাকায় দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষকেরা শ্রমিক ছাঁটাই করছেন, উৎপাদন কমাচ্ছেন এবং লাভের অঙ্ক সংকুচিত হচ্ছে। ছোট ও বাণিজ্যিক উৎপাদকেরা এ কথা জানিয়েছেন কৃষি সংবাদমাধ্যম ফুড ফর মজান্সিকে।
ফ্রি স্টেট প্রদেশের মুরগি খামারি লিউয়েলিন লু বলেন, মুরগি সুস্থ রাখতে তাপ, বায়ু চলাচল ও আলোর জন্য বিদ্যুৎ অপরিহার্য, তাই প্রতিবার বিদ্যুতের দাম বাড়লে উৎপাদন খরচ বাড়ে; আর খাদ্য, বাচ্চা মুরগি ও তৈরি পণ্য পরিবহনে জ্বালানির খরচ তো আছেই।
বুশবাকরিজের সবজিচাষি সিমাঙ্গেলে মাকুতু জানান, সবজি পচে যাওয়ার আগে বুশবাকরিজ, হেজিভিউ ও এমবোম্বেলার বাজারে দূরপথে নিয়ে যেতে হয়, ফলে লাভের বেশির ভাগই যায় পরিবহনে। সারের দাম দ্বিগুণ হওয়ায় তিনি কম সার কিনছেন, ফলনও কমেছে: আগে যেখানে ১০০ বস্তা পালংশাক পেতেন, এখন পান ৬০ থেকে ৭০ বস্তা। ন্যূনতম মজুরি বাড়ায় চারজনের বদলে দুজন শ্রমিক রাখতে পারছেন। নর্দার্ন কেপের মুরগি খামারি নকোবিলে খুমালো জানান, বেতন দিতে না পারায় তাঁদের দুজন কর্মী ছাঁটাই করতে হয়েছে।
ন্যাশনাল আফ্রিকান ফার্মার্স ইউনিয়নের (নাফু) এমপুমালাঙ্গা প্রদেশের সভাপতি জাবু মাহলাঙ্গু বলেন, প্রায় সব কৃষিপণ্যের উৎপাদকই টিকে থাকার লড়াই করছেন, কেউ কেউ মজুরি দিতে না পেরে শ্রমিক কমাচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, কৃষকের দিন শুরু হয় সূর্য ওঠার আগে, কিন্তু ডিজেল, সার আর পরিবহনের খরচ আগে থেকেই দরজায় অপেক্ষা করে।
অক্টোবরে জ্বালানির দাম আবার বাড়ার সম্ভাবনার মধ্যে মাহলাঙ্গু সরকারকে দাম হঠাৎ বাড়লে সাময়িক ও আর্থিকভাবে দায়িত্বশীল উপায়ে সাধারণ জ্বালানি শুল্ক কমানোর আহ্বান জানান, যেমনটি দেশটি আগেও করেছে। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের পরিবার, ক্ষুদ্র কৃষক ও খাদ্য পরিবেশকদের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক পরিবহন ও উপকরণ সহায়তা চেয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, এখন আরেকটি ঘোষণা নয়, বাস্তব পদক্ষেপের সময়।
ছবি: PZFUN / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: Food for Mzansi





মন্তব্য
(০)