মাগুরা সদর উপজেলার নালিয়ারডাঙ্গি গ্রামে কোয়েল পাখির খামার করে স্বাবলম্বী হয়েছেন রেজাউল ইসলাম মন্টু। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে জাগো নিউজের মাগুরা প্রতিনিধির প্রতিবেদনে জানানো হয়, তার খামারের ডিম স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। কোয়েলের মাংস সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হওয়ায় প্রতি মাসে তিনি হাজার জোড়া কোয়েলের বাচ্চাও বিক্রি করছিলেন। তবে অর্থের অভাবে খামারটি আর বড় করতে পারছিলেন না।
মাগুরা সদর খুলনা বিভাগের মাগুরা জেলার একটি উপজেলা, আয়তন ৪০১.৫৮ বর্গকিলোমিটার। জেলা শহর মাগুরাই এই উপজেলার সদর দপ্তর।
লোকসান থেকে কোয়েলের খামারে
রেজাউল ইসলাম মন্টু জাগো নিউজকে জানান, ১৯৯৬ সালে তিনি প্রথম পোল্ট্রি ও লেয়ার মুরগির ব্যবসা শুরু করেন, কিন্তু তাতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরে ২০০১ সালে যুব উন্নয়ন থেকে প্রশিক্ষণ নেন এবং শখের বশে নতুন করে কোয়েল পাখির খামার শুরু করেন। তখন থেকে তিনি এই ব্যবসা ধরে রেখেছেন। খামারের আয়ে তিনি বাড়িঘর ও জমি কিনেছেন, কিনেছেন চাষের ট্রাক্টরও। মন্টু ও তার দুই ভাই খামারে সময় দিয়েই নিজেদের অবস্থা বদলেছেন।
সরকারের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর ১৯৭৮ সালে যুব উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের (পরে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়) অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয়। অধিদপ্তরটি সারা দেশে যুবকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালায়; মন্ত্রণালয়ের সংজ্ঞায় ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীরা যুব।

ডিমের চাহিদা ও গ্রামের কর্মসংস্থান
পাইকাররা জানান, খামারের ডিমের আকার ভালো হওয়ায় বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকাররা নালিয়ারডাঙ্গি গ্রামে আসেন। ডিমের আকার-আকৃতি ভালো বলে খুচরা বিক্রেতারাও এই ডিম বিক্রি করে লাভবান হন।
গ্রামের ভ্যানচালক রহমান শেখ জাগো নিউজকে জানান, আড়াই একর (২৫০ শতক) জমির ওপর গড়া খামারটিতে গ্রামের ১৪-১৫ জন বেকার যুবকের কাজের সুযোগ হয়েছে। কেউ কেউ সকালে এসে বিকেলে বাড়ি ফেরেন। অনেক ভ্যানচালকও এখানে কাজ করছেন: প্রতিদিন নির্দিষ্ট ২০০ টাকা মজুরি পাওয়ায় তারা যাত্রী পরিবহন ছেড়ে এই কাজে এসেছেন। এতে বেশ কয়েকটি পরিবার ভালোভাবে চলতে পারছে।
পোল্ট্রি ও লেয়ারের চেয়ে কোয়েলের খামারে ঝুঁকি কম ও লাভ বেশি বলে এলাকার অনেকেই তখন কোয়েলের খামার করার কথা ভাবছিলেন। এলাকার যুবকরা জানান, পাশের শ্রীপুর উপজেলায়ও একটি কোয়েল খামার গড়ে উঠেছে।

কোয়েল কেন খামারিদের পছন্দ
কোয়েল তিতিরের মতো দেখতে ছোট আকারের ভূচর পাখি। এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার তথ্যে, পুরোনো বিশ্বের কোয়েল ফ্যাজিয়ানিডি গোত্রের পাখি, আর কোয়েলের মাংস ও ডিম দুটিই সুস্বাদু খাবার হিসেবে কদর পায়। খামারে সাধারণত যে জাতটি পালন করা হয়, সেটি জাপানি কোয়েল (Coturnix japonica)।
জাপানি কোয়েল সহজে পালন করা যায়, দ্রুত বাড়ে, আকারে ছোট এবং বেশি হারে ডিম দেয়; এ কারণে সারা বিশ্বে বড় পরিসরে এর খামার হয়। গৃহপালিত জাতের কোয়েল বছরে ৩০০টি পর্যন্ত ডিম দিতে পারে। একটি ডিমের ওজন জাতভেদে ৮ থেকে ১৩ গ্রাম, গড়ে ১০ গ্রাম। ডিম ফুটতে গড়ে সাড়ে ১৬ দিন লাগে। গৃহপালিত প্রাপ্তবয়স্ক কোয়েলের ওজন সাধারণত ১০০ থেকে ১২০ গ্রাম, তবে মাংসের জন্য তৈরি বাণিজ্যিক জাত ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়।

সহজ শর্তে ঋণের দাবি
মাগুরা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল করিম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাজার ব্যবস্থার উন্নয়নসহ এসব ছোট খামারিদের সহজ শর্তে অথবা সুদমুক্ত ঋণ দিলে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক সাড়া পড়বে।’ তিনি ক্ষুদ্রঋণ পরিচালনায় উদ্যোগী হওয়ারও আহ্বান জানান সংশ্লিষ্টদের।
ছবি: Mohaiminul Adil / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, উইকিপিডিয়া (জাপানি কোয়েল, মাগুরা সদর উপজেলা, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর)





মন্তব্য
(০)