দুধ দেওয়ার প্রথম কয়েক সপ্তাহ ম্যাস্টাইটিস বা ওলান প্রদাহের তথ্য সংগ্রহের সবচেয়ে মূল্যবান সময়, অথচ সহজেই এই রেকর্ড রাখা অবহেলিত হয়, ফার্মার্স উইকলিতে পরামর্শমূলক লেখায় বলেছেন ফ্রায়ার্স মুর লাইভস্টক হেলথের পশুচিকিৎসক মার্থা টুইস্ট।
ম্যাস্টাইটিসের সমস্যা সাধারণত কয়েকটি ধরনে পড়ে: পরিবেশজনিত, সংক্রামক, দুধ দেওয়ার সময়ের এবং শুকনো সময়ের (ড্রাই পিরিয়ড) কারণ। কোন খামারে কোনটি মুখ্য, তা বুঝলে ঠিক জায়গায় চেষ্টা করা যায়। শুধু শীতে ঘরে রাখার সময় দুধে কোষের সংখ্যা বাড়লে চারণভূমি বদলে লাভ নেই, আবার দোহন যন্ত্রের ত্রুটি থাকলে গোয়ালের পরিচ্ছন্নতা বাড়িয়ে সমাধান হবে না। মৌসুম ধরে খামারের নিজের তথ্য দেখলেই ধরনগুলো সবচেয়ে ভালো বোঝা যায়।
দুধ দেওয়ার প্রথম ৩০ দিনের মধ্যে কোনো গাভীর দুধে কোষের সংখ্যা বেশি পাওয়া গেলে বা স্পষ্ট ম্যাস্টাইটিস হলে তাকে শুকনো সময়ের সংক্রমণ ধরা হয়। আগের দুধ দেওয়ার শেষে আর নতুন দুধ দেওয়ার প্রথম ৩০ দিনে গাভীর কোষের সংখ্যা মিলিয়ে দেখা শুকনো সময়ের ব্যবস্থাপনা কতটা সফল, তার ভালো মাপকাঠি; ৩০ দিন পেরোলে পুরোনো সংক্রমণ না নতুন সমস্যা, বোঝা কঠিন হয়। যেসব খামারে একসঙ্গে বাছুর জন্ম হয় এবং মাসে মাসে দুধ পরীক্ষা হয় না, সেখানে বেশির ভাগ গাভী যখন প্রথম মাসে থাকে, তখন পরীক্ষার সময় ঠিক করার পরামর্শ তাঁর।
এই গ্রীষ্মে যুক্তরাজ্যজুড়ে খরায় অনেক শুকনো গাভী খুব কম ঘাস পেয়েছে; এক জায়গায় ঘন হয়ে চরা আর গোবর জমায় ওলানের আশপাশে জীবাণু বাড়ে। টুইস্টের পরামর্শ, ঘাস না বাড়লেও চারণ ঘুরিয়ে করতে হবে: একটি জায়গায় সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ চরানো, তারপর চার সপ্তাহ বিশ্রাম। আগেভাগে ঘরে তোলা গাভীর জন্য হালকা ‘গ্রীষ্মকালীন’ ব্যবস্থা নয়, নিয়মিত গোবর পরিষ্কার, পরিষ্কার বিছানা আর ঘন ঘন বিছানা বদলের পুরো শীতকালীন নিয়ম মানতে হবে।
বাছুর জন্ম শুরু হলে মনোযোগ দিতে হবে বাঁট প্রস্তুতিতে। আদর্শ পদ্ধতি হলো প্রথমে কয়েক ফোঁটা দুধ ফেলে দেওয়া, তারপর ডিপ কাপে দোহনের আগের জীবাণুনাশকে বাঁট ডোবানো এবং পুরোপুরি জীবাণুমুক্ত হওয়ার মতো সময় রাখা, এরপর কাগজের তোয়ালে দিয়ে ভালো করে মুছে দোহন যন্ত্র লাগানো। অন্য পদ্ধতিও কাজে দিতে পারে; নিজের খামারের জন্য কোনটি ঠিক, তা পশুচিকিৎসকের কাছে জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
ছবি: Cgoodwin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: Farmers Weekly




মন্তব্য
(০)