দক্ষিণ আফ্রিকার ডার্লিংয়ে ওয়েস্টার্ন কেপ এনগুনি ক্লাব ও রিগেইনার এনগুনির যৌথ নিলামে ‘মুচো’ (Mucho) নামের একটি এনগুনি ষাঁড় (লট ৮, কিউ ২১০০১১ এইচএইচ) সর্বোচ্চ ১,২০,০০০ র্যান্ডে বিক্রি হয়েছে। ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা জানিয়েছে, ক্রেতারা অনুমানে না কিনে প্রমাণিত জাতের পশুর জন্য দাম দিয়েছেন।
নিলামের আয়োজক ও প্রধান বিক্রেতাদের একজন, এক্সস্টিন এনগুনিসের লখনার একস্টিন বলেন, ক্রেতারা আর ঝুঁকি নিয়ে কিনছেন না, এটাই তিনি প্রবণতা হিসেবে দেখছেন। তাঁর কথায়, ভালো ইতিহাস, শক্ত মাতৃধারা আর প্রমাণিত রেকর্ডের ষাঁড়, বিশেষ করে যেগুলো খামারিরা আগেই ব্যবহার করেছেন, ভালো দাম পেয়েছে।
মুচোর ক্যাটালগে প্রজনন মান সূচক (ইবিভি) ছিল গড়ের ওপরে: সরাসরি দুধ ছাড়ানোর ওজনে ১১৭, মাতৃ দুধ ছাড়ানোয় ১১৩, দুধ ছাড়ানোর পরের বৃদ্ধিতে ১১৪ এবং গাভীর উর্বরতায় ১১১। তার মা ১০টি বাছুর দিয়েছে, যার ৯টির দুধ ছাড়ানোর রেকর্ড আছে, আর দুই বাছুরের মাঝে গড় বিরতি ৩৭১ দিন।
প্রজনন রেকর্ড থাকা গাভীরও একই কদর। রিগেইনারের পাঁচটি ‘৩-ইন-১’ লট (বাছুরসহ গাভী, যা আবার গর্ভবতী) গড়ে ৪৩,২০০ র্যান্ডে বিক্রি হয়, সর্বোচ্চ ৪৭,০০০; সাতটি গাভী-বাছুর জোড়া গড়ে ৩৫,১৪২ র্যান্ড, সর্বোচ্চ ৫৭,০০০; নয়টি গর্ভবতী বকনা গড়ে ২২,১১১ র্যান্ড। ৫৭,০০০ র্যান্ডের জোড়াটি ছিল সাড়ে চার বছরের একটি গাভী, সঙ্গে তার চতুর্থ বাছুর; প্রথম বাছুর দিয়েছিল ১৬ মাস বয়সে, আর বকনার উর্বরতায় ১৪৫, গাভীর উর্বরতায় ১১১ ও দীর্ঘায়ুতে ১১৪ প্রজনন মান।
ক্লাবের স্টাড অংশে তিনটি ষাঁড় গড়ে ৪৫,৬৬৬ র্যান্ডে বিক্রি হয়, সর্বোচ্চ ৫৫,০০০; সাতটি ৩-ইন-১ গাভী গড়ে ৪০,৫৭১, সর্বোচ্চ ৪৯,০০০। বাণিজ্যিক অংশে ১১টি গাভী-বাছুর জোড়া গড়ে ১৭,৪৫৪ আর ২৪টি অগর্ভবতী বকনা গড়ে ৯,৯৩৭ র্যান্ডে বিক্রি হয়েছে। একস্টিনের মতে, অর্থনৈতিক চাপ আর অনিয়মিত আবহাওয়ার মধ্যে বিস্তীর্ণ চারণভূমিতে টিকে থাকা ও উর্বরতার কারণে এনগুনির চাহিদা বাড়ছে।
নিলামে এমএসডি অ্যানিমেল হেলথের ড. ব্রনওয়েন মার্টিন সতর্ক করেন, কলিজা কৃমি (লিভার ফ্লুক) নীরবে গরুর উৎপাদন কমিয়ে দেয়। অপরিণত কৃমি কলিজার ভেতর দিয়ে ঘুরে পিত্তনালিতে থিতু হয়, ক্ষত ও দাগ তৈরি করে, ফলে স্পষ্ট অসুখ না দেখা দিলেও বৃদ্ধি ও প্রজনন কমে। তাঁর কথায়, মরা পশু খুব একটা চোখে পড়বে না, কিন্তু উৎপাদনের বড় ক্ষতি হয়। মিঠাপানির শামুক এই পরজীবীর জীবনচক্রের অংশ বলে ভেজা জায়গা, পানি জমে থাকা জমি আর পানির লাইনের ফুটো নজরে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
প্রতিবেদন: হেনিং নডে (Henning Naudé), ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা।
সূত্র: Farmers Weekly South Africa




মন্তব্য
(০)